Breaking News

ইউনিয়ন পরিষদের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন জরুরি

গ্রামীণ জনপদের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের সঙ্গে জাতীয় সরকারের সংযোগ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। যদিও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের একটি সাংগঠনিক কাঠামো থাকা জরুরি। তাই ইউনিয়ন পরিষদকে অধিকতর কার্যকর ও গতিশীল করতে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি সব বিভাগীয় কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের একটি সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা উচিত; আর এজন্য ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
বস্তুত স্থানীয় প্রশাসনিক শক্তিকে সমন্বয়ের ক্ষমতা প্রদান করার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব। এজন্য ইউপি সচিবকে ইউনিয়ন নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রদান করে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সব মন্ত্রালয়ের জনবলকে ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত কর্মচারীদের কাজের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ও বেতন ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী হওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা পরিষদের ন্যায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী স্ব-স্ব মন্ত্রণালয় বা বিভাগীয় কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদের তদারকি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের যেসব বিভাগে কর্মরত সরকারি কর্মচারী নেই, সেসব বিভাগের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক বিভাগে আলাদা শাখা খুলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এভাবে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী হলে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ হবে অধিকতর কার্যকর এবং বিভাগীয় কার্যক্রমগুলো হবে অধিকতর গতিশীল; অথচ এ কাজের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের অতিরিক্ত কোনো অর্থ বা জনবল প্রয়োজন হবে না।
আমাদের সংবিধানের ৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। তাই আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রজাতন্ত্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে; যে কারণে সংবিধানের ৫৯ এবং ১৩ নং ধারায় ইউনিয়ন পরিষদকে (স্থানীয় সরকার) প্রশাসনের উপর কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সংবিধানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশাসনের যে শাসনভার দেয়ার কথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভেবেছিলেন- স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পূর্ণ হতে চললেও ইউনিয়ন পর্যায়ে আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
উপরে উল্লেখিত সুপারিশ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসনিক সব বিভাগীয় কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে এবং গ্রামের জনগণ খুব সহজে উন্নত সেবা গ্রহণ করতে পারবে। মূলত এ প্রক্রিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদকে একটি কার্যকর, গতিশীল ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হলে ‘গ্রামকে শহর’-এ রপান্তর করা, সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সফল হবে।
মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর
ইউপি সচিব, ৫নং জাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ
homaunkabirs13@gmail.com

No comments