Breaking News

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির বিকাশ একাউন্ট সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির বিকাশ একাউন্ট সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান নিয়ে আজকে আমাদের টিউন। সকলের উপকারার্থে অবশ্যেই এই ব্লগটি শেয়ার করে দিবেন।
শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির একাউন্ট সম্পর্কিত সমস্যায় পড়েননি এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাদ্রাসা উপবৃত্তির একাউন্ট সম্পর্কিত সমস্যায় জর্জরিত।
শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও শিক্ষকগণ ভয়ঙ্কর বিড়ম্বনার শিকার।
শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে এসে টাকা না পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের কাছে সমস্যার সমাধান জানতে চায়।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বিকাশ একাউন্ট সম্পর্কিত সমস্যার কোন সমাধান দিতে পারে না।
যাদের একাউন্টে পিন নাম্বার ভুল হয়েছে ভুলে যাওয়ার কারণে টাকা তুলতে পারছে না তাদের টা সমাধান করার সহজ হলেও যাদের একাউন্ট ভুল হওয়ার কারণে একাউন্টে টাকা আসছে না তাদের সমস্যার সমাধান কেউ দিতে পারছে না।
শহরের স্কুল গুলোতে অভিভাবকগণ কিছুটা সচেতন হলেও গ্রামের শতকরা ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অসচেতন।
আজকে আমি আপনাদের বলার চেষ্টা করব কিভাবে বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিকাশ একাউন্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার সহজ সমাধান করবেন।
প্রথমেই আমরা জেনে নেই শিক্ষার্থীর বিকাশ একাউন্টে সাধারণত কি কি সমস্যা হয়-
১. শিক্ষার্থীরা একাউন্টের পিন নম্বর ভুলে যায়।
২. বারবার ভুল পিনকোড দেওয়ার কারণে বিকাশের অ্যাক্সেস চ্যানেল ডিজেবল মেসেজ আসা।
৩. শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্ট নাম্বার বিকাশ নম্বরটি হারিয়ে ফেলা বা নম্বরটি নষ্ট হয়ে যাওয়া।
৪. বিকাশ প্রতিনিধি কর্তৃক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট শিক্ষার্থীদের ভুল অ্যাকাউন্ট নাম্বার দেওয়া।
৬. অন্যান্য কারণে শিক্ষার্থীদের বিকাশ একাউন্ট নষ্ট হয়ে যাওয়া।
আমি এখন আপনাদেরকে বলার চেষ্টা করবো কিভাবে ধাপে ধাপে আপনারা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবেন।
সমস্যা-১: শিক্ষার্থীর পিন নাম্বার ভুলে যাওয়া।
সমস্যার কারণ: সাধারনত বিকাশ একাউন্ট করার সময় বিকাশ প্রতিনিধি তাদের মনমতো পিন নম্বর দেয় যে কারণে শিক্ষার্থীরা সেটি মনে রাখতে পারে না বা ভালোভাবে সংরক্ষণের অভাবে পিন নম্বরটি ভুলে যায়।
সমাধান: শিক্ষার্থীর বিকাশ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে প্রথমেই বিকাশের হেল্পলাইন 16247 এই নম্বরে কল করুন।
কল করার সময় নিম্নোক্ত কাগজপত্র সাথে রাখুন-
ক. শিক্ষার্থীর স্টাইপেন্ড আইডি নম্বর (যেটা শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির ফরম বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে পাওয়া যাবে)
খ. শিক্ষার্থীর অভিভাবকের এনআইডি নম্বর। (যার এনআইডি নম্বর দিয়ে বিকাশ একাউন্ট করা হয়েছিল)
গ. বিকাশ এর সর্বশেষ ব্যালেন্স জেনে নিন। ব্যালেন্স জানা না থাকলে আপনার বিকাশ একাউন্ট নাম্বারে সর্বনিম্ন 50 টাকা রিচার্জ করুন। রিচার্জ করলে আপনার একাউন্টে বিকাশ থেকে ক্যাশ ইন সংক্রান্ত যে মেসেজটি আসবে সেই মেসেজে থাকবে সর্বশেষ ব্যালেন্স কত!
উপরোক্ত তথ্যগুলো একটি সাদা কাগজে লিখে বিকাশ হেল্প লাইনে ফোন করুন। বিকাশ প্রতিনিধি আপনার কাছে যে সকল তথ্য জানতে চায় সেগুলো সঠিকভাবে প্রদান করুন। বিকাশ থেকে আপনার তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে আপনার আপনার মোবাইলে একটি টেম্পোরারি পিন নম্বর আসবে।
এরপর বিকাশের ইউএসএসডি মেনু স্টার *২৪৭# ডায়াল করুন।
আগত মেনু থেকে সেভেন অপশন সিলেক্ট করে পিন নম্বর রিসেট করে নিন।
সমস্যা-২: বিকাশ এর অ্যাক্সেস চ্যানেল ডিজেবল মেসেজ আসা।
সমস্যার কারণ: শিক্ষার্থী কর্তৃক বা অ্যাকাউন্ট হোল্ডার করতে বারবার ভুল পিন নাম্বার দেওয়ার কারণে বিকাশ অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস চ্যানেল ডিজেবল মেসেজটি আসে।
সমস্যার সমাধান: এই সমস্যাটি ও আপনি এক নম্বর সমস্যার মত সমাধান করতে পারবেন। উপরুক্ত তথ্যাবলী অনুসরণ করে সমস্যাটি সমাধান করে নিন।
সমস্যা-৩: উপবৃত্তির স্টেটমেন্টে শিক্ষার্থীদের ভুল অ্যাকাউন্ট নাম্বার থাকা।
সমস্যার কারণ: এই সমস্যাটি সাধারণতঃ বিকাশ প্রতিনিধি যখন যখন একাউন্ট খুলেন তখন স্টেটমেন্টে ভুল নাম্বার লেখার কারণে এবং যারা ডাটা এন্ট্রি করে তাদের ভুলের কারণে এই সমস্যাটি হতে পারে।
সমস্যার সমাধান: এই সমস্যাটির সমাধান একটু জটিল। এটি সমাধান করার জন্য বিকাশ একাউন্ট হোল্ডার বিকাশ একাউন্ট এর যাবতীয় তথ্য যেমন-
ক. শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট আইডি নম্বর (উপবৃত্তি আইডি)
খ. যার ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল সেই ভোটার আইডি কার্ড।
গ. একাউন্ট হোল্ডার এর সাথে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক।
ঘ. পুরাতন বিকাশ একাউন্ট নম্বর।
ঙ. নতুন বিকাশ একাউন্ট নম্বর।
চ. প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্ধারিত ফরমে প্রত্যয়নপত্র।
উপরোক্ত তথ্যাবলী নিয়ে বিকাশ একাউন্ট হোল্ডার ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা বিকাশ সেন্টারে গিয়ে বিকাশ একাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করে নিতে পারেন।
বিকাশে তথ্য হালনাগাদ এর জন্য একটি আবেদন লিখবেন।
উপবৃত্তির বিকাশ একাউন্ট আপডেট ফরম
নমুনা আবেদন ফরম খানে সংযুক্ত করা হলো।
এই ফরমটি সাথে উপরোক্ত কাগজ কাগজপত্র সংযুক্ত করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সংশ্লিষ্ট নিকটস্থ বিকাশ সেন্টারে গিয়ে সমস্যা সমাধান করবেন।
ফরমের নামডাউনলোড (Word File)ডাউনলোড (PDF)
বিকাশ একাউন্ট আপটেড আবেদনডাউনলোডডাউনলোড
প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়ন (নমূনা)ডাউনলোডডাউনলোড
সারা বাংলাদেশের সকল বিকাশ সেন্টার এর ঠিকানা ও ফোন নম্বর পেতে এখানে
বিকাশে তথ্য হালনাগাদ করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত নমুনা প্রত্যয়ন পত্র এখানে সংযুক্ত করা হলো।

ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে নমুনা প্রত্যয়ন পত্র টি ডাউনলোড করে নিন।

এই প্রত্যয়ন পত্র টি আপনি কম্পিউটারে সম্পাদন করতে পারবেন।
উপরোক্ত কার্যাবলী প্রতিষ্ঠান শিক্ষকের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীর অভিভাবক কি করতে হবে।
বিদ্যালয় কর্তৃক প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন।

1 comment: