Breaking News

পীরগঞ্জ (রংপুর) উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির প্রতি খোলা দরখাস্ত

প্রতি
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ
উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি
পীরগঞ্জ-রংপুর।
বিষয়: করোনার সংকটময় সময়ে সচেতনতা বৃদ্ধি,বিভ্রান্তি এবং করণীয় প্রসঙ্গে।
জনাব
যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক সবিনয় নিবেদন এই যে, সবাই যখন করোনা আতঙ্কে কাপছে তখন আমরা সবাই কোন না কোনভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এককভাবে করোনা বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি করা সহজ না। পেশাগত কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি জনগণ এ বিষয়ে মোটেই সচেতন নয়। তেমন গুরুত্বই দিচ্ছে না তারা এ বিষয়ে। অনেক জনের সাথে কথা বলেছি এ বিষয়ে। তারা পাত্তাই দিচ্ছে না। কোন কিছুই থেমে নেই।
ঘোষণা দিয়েই খালাস। কোথাও কোন লকডাউন নাই। সব ওপেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান,বিয়ের অনু্ষ্ঠান, সুন্নত(খাৎনা),কোরআন খতম উপলক্ষে অনুষ্ঠান,চাঁয়ের দোকানে আড্ডা,সচেতনতামূলক সমাবেশের নামে জমায়েত সব চলছে। কোন মনিটারিং নাই। একটি গ্রামে গত শুক্রবার এক দাওয়াতে শতাধিক মানুষ দেখা যায়। সেই বাড়িতেই সৌদি ফেরত একজন তিন চার দিন আগেও ছিলো জানা যায়। জনে জনে কথা বলে দেখা গেছে কোন গুরুত্বই দিচ্ছে না তারা।
এমন অবস্থায় তাড়াহুড়া করে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে অনেকেই ভুল করে ফেলছে। ফলে ভালোর চেয়ে খারাপ হওয়ার সম্ভবনাই বেশী। যেমন-
১। আপনারা পীরগঞ্জ পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে তের গ্রামে লকডাউন করলেন। গোটা বিশ্ব জানলো পীরগঞ্জের পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ। অথচ আপনারাই বলছেন একজনও করোনা আক্রান্ত বা লক্ষণ আছে এমন কাউকে পাওয়া যাইনি। তাহলে এই ঘোষণাইবা কেন এবং তা ফলাউ করে টিভি চ্যানেলে সংবাদ হিসেবে প্রচার করা কেন। এটি কি স্ববিরোধী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়?
একবার ভেবে দেখেছেন আমাদের আত্মীয় স্বজন যারা পীরগঞ্জের বাইরে থাকে তারা কতটা আতঙ্কিত হতে পারে।
সেক্ষেত্রে পরামর্শঃ লকডাউনের মত ভয়াবহ পরিস্থিতি এমন ব্যাখ্যা দিন। মোট আক্রান্তের তথ্য দিন। অথবা পরিস্থিতি ভয়াবহ নয় এমন ব্যাখ্যা দিন।
২। আপনারা জানেন কি গোটা উপজেলার কতজন প্রবাসী? আপনাদের মতে শতাধিক ফিরেছে! তাদের পরীক্ষার কোন ব্যবস্থাই আপনাদের কাছে নেই। উপরোন্ত আপনারা তাদের কারো কারো বাড়িতে পুলিশ পাঠাচ্ছেন। পুলিশের ভয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে। ফলে যদি তারা করোনা আক্রান্ত হন তাহলে তা আরো জায়গায় ছড়ানোর সম্ভবনা বাড়ছে না কি?
সেক্ষেত্র পরামর্শঃ দয়া করে পদ্ধতি পরিবর্তন করুন। কোন প্রবাসী যদি এলাকায় এসেই থাকে তাহলে পুলিশ না পাঠিয়ে স্থানীয় প্রতিনিধি,ধর্মীয় নেতা এবং লোকাল এলিটদের মাধ্যমে হোম কোয়ারেন্টাইনের পরিবেশ সৃষ্টি করা যেতে পারে।
৩। হাসপাতালে রোগি না আসার ঘোষণা দিয়েছেন। আপনারই বলছেন জ্বর,সর্দি-কাঁশি মানে করোনা নয়। এসব হলে বাড়িতে থাকতে বলছেন। যদি তার টাইফয়েড,ডেঙ্গু বা প্রসাবের ইনফেকশন হয় তাহলে কি সেটি পরীক্ষা না করে সেটি জানা সম্ভব? শুধু প্যারাসিটামলে কি চিকিৎসা সম্ভব? ডেঙ্গু বা টাইফয়েড কি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে না?
এ ক্ষেত্রে পরামর্শঃ রোগির হিস্ট্রি শোনার ব্যবস্থা করুন। সিবিসি,ভিডাল এবং ইউআরই করে আস্বস্ত করুন তার সমস্যার ব্যাপারে।
৪। এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম চলছে। তাহলে কর্মহীন,উপার্জনহীন গৃহবন্দী মানুষ তাদের চাপে দমবন্ধ হয়ে মারা যাবে।
এক্ষেত্রে পরামর্শঃ স্থানীয় প্রশাসন পক্ষে এসব কিস্তি আদাই ও দাদনের টাকার জন্য চাপ না দিতে মাইকিং করতে পারে। এতে জিম্মি মানুষগুলো স্বস্তিতে দম নিতে পারবে।
৫। বাজার নিয়ন্ত্রণে রেশন পদ্ধতি চালু না করে খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে গৃহবন্ধী করলে অনাহারে মারা যাবে অনেক মানুষ। তখন তারা খুধার জ্বালায় অনেক কিছুই করতে পারে।
এক্ষেত্রে পরামর্শঃ সরকারি- বে-সরকারি এমনকি ব্যক্তি পর্যায়ের অনুদান সংগ্রহ করে রিলিফের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬। বিদেশ ফেরত যারা এলাকায় এসেছে বা আসবে দ্রুত তাদের তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। হোম কোয়ারেন্টাইন এসব এলাকায় কার্যকর হবে না।
এক্ষেত্রে পরামর্শঃ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,আশ্রয় কেন্দ্র,মেরিণ একাডেমিসহ নিরাপদ জায়গাগুলোতে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে হবে। কমপক্ষে ১৪দিন তাদের চিহ্নিত করে বাধ্যতামূলক সেখানে রাখতে হবে।
বিষয়গুলো বিবেচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।
শুভেচ্ছান্তে
সেবু মোস্তাফিজ
গণমাধ্যমকর্মী
দৈনিক যায়যায়দিন 
প্রতিনিধি
পীরগঞ্জ-রংপুর।
২৩.০৩.২০২০ইং

No comments