Breaking News

‘ওলট-পালট করে দে মা, লুটেপুটে খাই’


একদিকে বাংলাদেশে করোনার মহানারি এবং সঙ্কট, বুভুক্ষ মানুষের ত্রাণের জন্য তাকিয়ে থাকা, কিছুটা খাবারের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষ, গাড়ি দেখলেই ক্ষুধার্ত মানুষের ছুটে আসা কিংবা ওএমএস-এর চালের জন্য ভোর থেকে নিম্ন আয়ের মানুষদের দীর্ঘ লাইন। সবকিছু দিয়েই বাংলাদেশ যেন বদলে গেছে। দীর্ঘদিন পর একটি দারিদ্রপীড়িত, ক্ষুধার্ত বাংলাদেশের চেহারা আমাদের সামনে ফুটে উঠে আসছে। সামনের দিনগুলোতে কি হবে, সেই অজানা আশঙ্কা সবার মধ্যে। অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছেম ঢাকায় করোনার ১ মাসে প্রায় ১ লাখ মানুষ চাকরিচ্যুত হয়েছে। আর সবকিছু মিলিয়ে অভাব, অনটন দারিদ্রের এক কড়াল গ্রাস আমাদের চারপাশকে ঘিরে ফেলছে। কিন্তু এই অবস্থাতেও বসে নেই দূর্নীতিবাজরা। তাঁরা যেন উল্লাসে নৃত্য করছেন এবং এই সু্যোগকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা বিভিন্ন রকম অনিয়ম-দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ফুলেফেঁপে উঠতে চাইছেন। পরিস্থিতি এমন যে, ‘ওলট-পালট করে দে মা, লুটেপুটে খাই’, অর্থাৎ এখন বসে থাকার সময় নয়, এখন টাকা বাড়ানোর সময়। এই দূর্নীতির যে লাগামহীন উৎসব চলছে দেশের বিভিন্ন স্থানে তারই কিছু খণ্ডচিত্র এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হচ্ছে-
স্বাস্থ্য খাতের দূর্নীতি
স্বাস্থ্য খাতের দূর্নীতি বহুল আলোচিত। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের কোন না কোন দূর্নীতি প্রকাশ পাচ্ছে। পিপিই, মাস্ক কেনা সহ টাকার নয়-ছয়ের কেচ্ছাকাহিনী গণমাধ্যমে এখন প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে, সাধারণ জনগণের-ও যেন এখন এসব গা সওয়া হয়ে গেছে এবং সরকারও যেন এই দূর্নীতিকে সহনীয় বলে ধরে নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, প্রতিরোধ করা বা প্রতিকার করার মতো যেন কিছু নেই। এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে যে কেলেঙ্কারি হলো, তারপর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যাদের ৩ দিনে রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা ছিল। তবে ৩ দিনের জায়গায় আজ ৫ দিন হয়ে গেলেও সেই রিপোর্টের তথ্য কি তা কেউ জানে না। এমনকি গণমাধ্যম যেন ‘ভূয়া খবর’ না ছাপে, সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি মিডিয়া সেল-ও গঠন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেখানে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর কাজ করবে, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা উন্নত করবে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বন্ধ চিকিৎসা চালু করার দেখভাল কবে, তবে তা না করে তাঁদের এখন গণমাধ্যমের উপর নজরদারি করার খায়েস কেন চাপলো- তা এখন বিরাট প্রশ্ন। গণমাধ্যমের বিষয় দেখার জন্য তো তথ্য মন্ত্রণালয় আছেই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজের কাজই যখন নিজেরা করতে পারছে না, সেখানে মিডিয়া সেল কি কাজ করবে সেটাই এক বিষ্ময়।
ত্রাণে অনিয়ম
স্বাস্থ্য খাতের দূর্নীতির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ত্রাণ বিতরণের অনিয়ম। এখন পর্যন্ত ত্রাণ কাজে দূর্নীতি-অনিয়ম করার দায়ে ৪০ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত কর হয়েছে। এরপরেও ত্রাণ দূর্নীতি বন্ধ হয়নি, এমনকি ত্রাণের তালিকা করা নিয় অনিয়ম করা হচ্ছে। মানুষ অভিযোগ করছে যে, যেভাবে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, তাতে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের থাকার সম্ভাবনা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। কোন বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি ছাড়াই এই তালিকা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
গার্মেন্টস মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা
এবার করোনা মোকাবেলায় সবথেকে মানবতাহীন এবং দানব ব্যবসায়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে গার্মেন্টস মালিকরা। তাঁরা যেন নিজেদের স্বার্থের বাইরে কোনকিছুই বোঝে না। আগে মনে করা হত যে, বাংলাদেশে বোধ হয় সড়ক পরিবহন মালিকরাই সবথেকে বেশি দানব, তবে সেই ভুল ভেঙেছে এবারের করোনার কালে। বাংলাদেশে সবথেকে ক্ষতিকারক ব্যবসায়ী হচ্ছে গার্মেন্টস মালিকরা। তাঁরা নিজেদের স্বার্থের বাইরে তাঁরা কোনকিছুই করে না এবং নিজেদের পকেট থেকে তাঁরা ১ টাকাও শ্রমিকদের পেছনে খরচে আগ্রহী নন। তাঁদের কারণেই বাংলাদেশে আরেকটি মৎসব শুরু হচ্ছে। যে প্রণোদনা প্যাকেজ, সেই প্যাকেজ যেকোন ভাবে হাতিয়ে নেবার মহাপরিকল্পনায় নেমেছে আমাদের গার্মেন্টস মালিকরা। আর এতে করে যা হবে যে, সরকার প্রথমে যে শর্ত দিয়েছিল বিকাশ একাউন্ট বা ডিকিটাল পদ্ধতিতে শুধুমাত্র শ্রমিকদের একাউন্টে টাকা যাবে; সেটা যে এখন বাস্তবায়ত হচ্ছেনা, তা গার্মেন্টস মালিকদের হম্বিতম্বি দেখেই বোঝা যাচ্ছে এবং এই সমস্ত গার্মেন্টস মালিকদের কারণে বাংলাদেশ আরেকটি ক্ষতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর এই ৫ হাজার কোটি টাকা যে গার্মেন্টস মালিকদের পকেটেই যাচ্ছে তা নিয়ে ক্রমশ সন্দেহ কমছে।
তাই এই করোনার সঙ্কট শুধু নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদের জন্য। অন্যদিকে কিছু মানুষের জন্য এটা এক উৎসব, এটাই যেন তাঁদের কাছে কিছু টাকা বানানোর সুযোগ।
সূত্রঃ বাংলা ইনসাইডার

No comments