Breaking News

করোনাভাইরাসে সকলে মরলেও, আপনার পরিবার ছাড়া কেউ এতোটুকু সমবেদনাও জানাবেন না

ইউপি চেয়ারম্যান,মেম্বর,সচিব, সহকারী ,গ্রাম পুলিশ,উদ্দোক্তা সকলকে এক কাতারে আসতে হবে। কোন প্রনোদনা চাই না, কাজের স্বীকৃতি চাই । শত সমস্যায় জর্জরিত ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত মানুষগুলো মুক্তি চায়। ইউপি চেয়ারম্যান,মেম্বরগণ নামমাত্র সম্মানীতে রাতদিন জনসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখেন।আমার চাকুরীর অভিজ্ঞতায় দেখেছি- চেয়ারম্যান,মেম্বরগণ তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা মুখ ফুটে বলতে পারেন না,শুধু লজ্জায় সকল যাতনা নিরবে সহ্য করেন। 
ইউপি সচিবের বেতন অনিয়মিত-শতভাগ প্রাপ্তিতে অনিশ্চতা রয়েছে, গ্রামপুলিশ তাঁর বেতনের দ্বারা সংসার চালাতে পারেন না, উদ্দোক্তাকে নির্দিষ্ট বেতন-ভাতার গ্যারান্টি ছাড়াই নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হয়। এবার ঈদে আমার কর্মস্থলের উদ্দোক্তার অর্থকষ্টে পতিত মলিন মুখখানা এবং তার কয়েকটি কথা- নিজেকে অনেক কিছু ভাবতে শিখিয়েছ! ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত মানুষগুলোর আইডেনটি সম্পর্কে জানতে চাই ? এখানে কেউ ননস্টপ সেবা দিয়ে খেতাব পান ‘চোর’ । 
কেউ সামান্য বেতনে বা বিনা বেতনে বা অনিয়মিত বেতনে রাতদিন পরিশ্রম করেও কর্তার মন পান না। আসলে এখানে কাজেরও যেমন শেষ নাই,তেমনি শেস নাই কর্তৃ পক্ষের ! এই প্রতষ্ঠানের সকলকেই বেলুনের মতো কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেন।মনে করেন, কাজের দরকার শুধু বলবেন- ‘আরে, চেয়ারম্যান মেম্বরগণ হলেন জনগণের সবচেয়ে কাছের এবং প্রিয় মানুষ; তারা এই কাজ করতে না পারলে,পৃথিবীর কেউ পারবেন না! আজকাল সাধারণ মানুষও শিখে গেছেন, তাঁরাও বলেন- ‘গত নির্বাচনে আপনার জন্য যে শ্রম দিয়েছিলাম ভাই, এবার আপনার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এখনই আমাকে বিভিন্নভাবে তাঁর কাছে ভিড়ানোর চেষ্টা করছেন। 
তাঁদের নিকট আগত মানুষগুলোর কথা আবার এরকমও হতে পারে- ভাই, আপনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে অমুকের বাড়ীর কাছে ইউড্রেন নির্মানে একটি ইট কম দিলেন? প্রকৃত সত্য হলো- তাঁদেরকে প্রায় সবাই আসেন হাওয়া দিয়ে ফুলাতে,কেউ আসেন তাঁর ইজ্জতহানী হাওয়ার বয়ান নিয়ে; তবে, সবাই খালি হাতে ফিরে যান না। 
তবে, তাঁদের কাছ থেকে যাওয়ার সময় মানুষগুলোর ভাবটা এই রকম থাকে- ‘শরীরের গোস্তটুকুই দিলো,কেন একটু কলিজা দিলে কী হতো?- অবশ্য এ্রর ব্যতিক্রম যে নাই, আমি তা বলছি না; তবে, ব্যতিক্রম আজকাল খুব কম।আজকাল গড় সত্য হলো- ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের বড় অভাব। যদিও ইউনিয়ন পরিষদ একটি সংখ্যা গরিষ্ট জনপ্রতিনিধির দ্বারা গৃহিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রতিষ্ঠান। যেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইউপি চেয়ারম্যানকে সকল ক্ষমতা দেয়া আছে। তারপরও ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ-লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারীভাবে সচিবকে জড়ানো হয়ছে।যেন, কোন কারনে কোন উপরমহল কোন ইউনিয়ন পরিষদের উপর বিরাগভাজন হলে, সেই পরিষদের সচিবের উপর তাঁর মনের ঝালটা ঝাড়তে পারেন।
হায় ! অবোলা সচিব,ইউনিয়ন পরিষদের কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনে তার ক্ষমতা, দায়ই বা কতটুকু? এখানে সবাই যে সুযোগটা কাজে লাগান- পাঁচ বছরের জন্য গঠিত ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের বাইরে ইউনিয়ন পরিষদের কোন কর্মচারীর নির্বাহী বা প্রশাসনিক কোন ক্ষমতা নাই। তাই, পাঁচ বছরের সম্মানিত অতিথিগণকে বাতাসে ফুলিয়ে,ভয় দেখিয়ে বা যেকোনভাবে তাঁদের মেয়াদ পাড় করে দিলেই হলো । 
আসলে, সবাই ইউনিয়ন পরিষদের নেতিবাচক দিকগুলো রপ্ত করে,সকলকে সুপ্ত করে রাখতে চান- এটাই চরম বাস্তবতা। যাহোক, অপ্রাসঙ্গিক কিছু না বলি; আজ চরম সত্য হলো- করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক সমস্যা এবং সরাসরি জনগনের মাঝে আজ সেতুবন্ধন হয়ে আছে- “একমাত্র ইউনিয়ন পরিষদ”। 
চেয়ারম্যান,মেম্বর এবং ইউনিয়ন পরিষদের তালপাতার সিপাইসম সকল কর্মচারী জীবনের ঝুকি নিয়ে মাঠে আছেন জনগনের সার্বিক সেবা প্রদানের জন্য। সরকারের একান্ত পোষ্যগণ জনগণ যখন নিজেদের বাঁচানোর জন্য “ঘরে থাকুন- সুস্থ্য থাকুন” নীতিতে অটল,তখন --খ্যাত জনপ্রতিনিধি এবং অবহেলিত ইউনিয়ন পরিষদ কর্মচারীগণ কাঙ্গালের মতো পাড়ঘাটে পড়ে আছেন।তাঁরা এই শ্রমের বিনিময়ে সরকারের নিকট অন্ধের ষষ্ঠী হতে চান না বা কোন প্রনোদনার আশায়ও তাঁরা কাজ করছেন বলে- আমি বিশ্বাস করি না। এই ধরনের কাজ করা ইউনিয়ন পরিষদের সহজাত স্বভাব। 
কিন্তু এতো ঝুকিযুক্ত শ্রমের পরেও সামান্য সহানুভূতি বা স্বীকৃতিটুকুও মনে হয় আপনি পাবেন না । ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনসেবা করে আপনি ফকির হবেন বা জীবন দিবেন- এটা যখন সকলের কাম্য; তখন সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের অবস্থা কী হবে?- তা অনুমেয়।
কিন্তু করোনাভাইরাস প্রমাণ করে দিলো- ইনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আর কর্মচারীরা বদনামের বদলে সম্মান পেতেন,কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা আদায় হতো; যদি তাঁরা এই দূর্যোগকালীন সময়ে এককাতারে সম্মিলিতভাবে নিজেদের অভাব সকলকে বুঝিয়ে দিতে পারতেন। 
বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবেলায় পূর্বের মতো সহজাতভাবে যাবতিয় কাজ করবো,তবে নিজেদের অবস্থানের গুরুত্ব অন্যদের বুঝিয়ে দিয়ে।আমরা এই সংক্রমিত রোগের মধ্যে- নিজের জীবন,পরিবারের ভবিষ্যত,সকলকিছু উপেক্ষা করে কাজ করছি সকলকে ভালো রাখার জন্য। 
কিন্ত আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সাথে যারা জড়িত তাঁদেরকে আপনারা সেই মূল্যায়াণটি করছেন তো? দুয়েকজনের জন্য আপনি ঢালাওভাবে সকলকে চোর বলছেন,কিন্তু এই দুর্যোকালীন মুহুর্তে আপনাকে ননস্টপ সেবা দেয়া মানুষগুলোর জীবন,পরিবার নিয়ে এতাটুকু সহানুভূতি- দেখাচ্ছেন বলে বোধ হচ্ছে না।
আপনার যারা বিভিন্ন খারা শব্দে ইউনিয়ন পরিষদকে গালমন্দ করেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- ইউনিয়ন পরিষদ অবরোধ করলে আপনি চলতে পারবেন তো? সার্বিক বিবেচনায়- আমাদের নতুন করে এবং নতুনভাবে ইউনিয়ন পরিষদের জনগুরুত্ব সকলকে বুঝানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
সব কথার শেষ কথাঃ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাওয়া দিয়ে ফুলিয়ে, কর্মচারীদের অবহেলা-অবজ্ঞায় রেখে আর কোন কাজ বাগিয়ে নেয়া চলবে না। নইলে- করোনাভাইরাসে সকলে মরলেও, আপনার পরিবার ছাড়া কেউ এতোটুকু সমবেদনাও জানাবেন না।
মো: দেলওয়ার হোসেন
সাধারন সম্পাদক
বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ
সচিব সমিতি ( বাপসা) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি

No comments