Breaking News

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ থেকে মসজিদে তারাবিসহ সব ওয়াক্তের নামাজ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ বৃহস্পতিবার থেকে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়েছে সরকার। জোহরের নামাজ থেকে শর্ত মেনে সুস্থ মুসল্লিরা মসজিদে সকল ওয়াক্ত ও তারাবির নামাজ আদায় করতে পারবেন। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে তিন ফুট দূরত্ব নিশ্চিতসহ ১২ দফা শর্তসাপেক্ষে এই অনুমতি দিয়েছে সরকার।
ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের শীর্ষ আলেম-উলামারা মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ পড়ার সুযোগ করে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানান। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার জানায়, সম্প্রতি সরকার সার্বিক বিবেচনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে বন্ধ ঘোষণার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জারি করা নির্দেশ অনুসরণ করে বিশেষ সতর্কতামূলক বিষয় মেনে চলার শর্তে ৭ মে জোহরের ওয়াক্ত থেকে সুস্থ মুসল্লিদের মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
মসজিদে নামাজে যে নির্দেশনা মানতে হবে ॥ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদে নামাজ আদায়ে কার্পেট বিছান যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুণাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।
মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট পর পর দাঁড়াতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যেকোন অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।
সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
মসজিদে ইফতার ও সেহ্রির আয়োজন করা যাবে না।
উল্লিখিত শর্ত পালন সাপেক্ষে প্রত্যেক মসজিদে সর্বোচ্চ পাঁচজন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইতেকাফের জন্য অবস্থান করতে পারবেন। করোনাভাইরাস মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার হবে। খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃখলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো। এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সম্প্রতি ওয়াক্তের নামাজে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং তারাবির নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে নির্দেশনা জারি করা হয়।

No comments