Breaking News

“সামাজিক দূরত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট” আশরাফুল রাংগা


 সামাজিক দূরত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রাদুর্ভাব হয় করোনাভাইরাসের। এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। চলতি বছরের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও।


বাংলাদেশের মাটিতে গত ৮ মার্চ প্রথম ০৩ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত করা হয় ১৪ মার্চ প্রথম কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে একজন মৃত্যূবরণ করেন।। তখন থেকেই বাংলাদেশ সরকার ডব্লিউএইচও- এর পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার তাগিদ দেন। যার মধ্যে গুরুত্বপুর্ণ হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মুখে মাস্ক ব্যবহার করা। দু:খের বিষয়, বাংলাদেশের মাত্র হাতে গোণা কিছু সংখ্যক মানুষ তা মানছেন। আর বাদ-বাকিরা এ বিষয়গুলোর কোন তোয়াক্কাই করছেন না। যারা মানছেন, তারাও আবার প্রশাসনের চাপে পড়ে খানিকটা বাধ্য হয়ে। অনেকে করোনা ভাইরাসকে বিশ্বাসই করতে চাইছেন না। তাদের মতে এটা একটা মানুষকে ভেতরে রাখার কৌশল মাত্র (আমি আমার এলাকার কথা বলছি)। মাস্ক পরিধান কিংবা সোস্যাল ডিসট্যান্সের কথা বললে উত্তর করে- আমাদের এদিকে তো নেই। আমরা কেন এসব করতে বা পড়তে যাব। বাহির থেকে যারা গ্রামে ঢুকছেন- স্বাস্থ্যবিধির উপদেশে তারা উল্টো আমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন। তারা বলছেন- ‘বাংলাদেশে তো বছর বছর এমনিতেই অনেক মানুষ মারা যায়। এ আবার নতুন কি। সব মিলিয়ে আরা ভালোই আছি। এটা বড় লোকদের অসুখ। ওরাই চিন্তা করুক।‘ ব্যাস, ওদের দায় সেরে গেল। তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, দু’একজন মাস্ক ব্যবহার করলেও বেশীরভাগ (প্রায় সব) সময়ই নাক-মুখ বাদ দিয়ে দাড়ি ঢেকে রাখছেন। বিষয়টা যেন এরকম-


“মাস্ক পড়ব দাড়িতে-

ভ্রমণ করব গাড়িতে,

করোনা আনব বাড়িতে!”


আসলে দোষ ওদের নয়। আমরা যারা সচেতন আছি, দোষটা আমাদের নিজেদের। আমরা হয়ত ওদের বিপক্ষে সচেতনতাবোধের জন্য দেয়া আমাদের জোড়ালো যুক্তিগুলো দাঁড় করাতে পারিনি। বিধায় ওদের যুক্তি টিকে আছে। আমরা হয়েছি ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেড়ো’।


বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ অন্যসব প্রেসক্রিপশন (ঘণ্টায় ঘণ্টায় সাবান পানিতে হাত পরিষ্কার করা, অপরিষ্কার অবস্থায় নাকে-মুখে-চোখে হাত না-দেওয়া, সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা প্রভৃতি) মেনে চলার চেষ্টা করলেও সামাজিক দূরত্ব ঠিকমতো মেনে চলছে না। কেননা একজনের সঙ্গে অন্যজনের মধ্যে কমপক্ষে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে চলাকে ‘সামাজিক দূরত্ব’ হিসেবে মানুষকে বোঝানো খানিকটা মুশকিল বটে! ফলে, বিভিন্ন ওষুধের দোকানের সামনে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানের সামনে ছয় ফুট অন্তর অন্তর গোলাকার মার্ক দিয়ে মানুষকে শেখাতে হচ্ছে কীভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রামক রোধে নিজেদের মধ্যে ‘শারীরিক দূরত্ব’ মেনে চলতে হবে, যাকে ‘সামাজিক দূরত্ব’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা মোটেও আমাদের সমাজ বাস্তবতায় সামাজিক সম্পর্ক এবং সামাজিক দূরত্বকে নির্দেশ করে না। ফলে, ‘শারীরিক দূরত্ব’কে ‘সামাজিক দূরত্ব’ হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টার কারণে বিষয়টি এখনও একটা বড় সমস্যা আকারে আমাদের সামনে লেগেই আছে। অথচ, সম্ভাব্য সংক্রামিত মানুষ থেকে সরে থাকার নামই সামাজিক দূরত্ব এবং এর বাস্তবায়নকেই বলা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করা। এর মানে এই নয় যে সামাজিক ভাবে কাউকে দূরে করে দেওয়া। এর মানে হল সমাজে নিজেকে ও আমার মতো আর একজনকে কোভিড-১৯ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা। যখন আমি বাড়ির মধ্যে পরিবারের সকলের সঙ্গে; তখন সামাজিক দূরত্বের কোনও মানেই নেই। বাড়িতে কারও সর্দি-কাশি-জ্বর হলে আমরা যেমন তাকে একটু আগলে রাখি, আলাদা রাখার চেষ্টা করি, এখানেও সেটা প্রযোজ্য।করোনার সামাজিক দূরত্ব আসলে মনের দূরত্ব কমানোর অবকাশ, ভুল বোঝাবুঝি ফেলে মিলেমিশে থাকার সত্যকে আবিষ্কার করার অবসর।


সত্যি বলতে কী, সাধারণ ফ্লু থেকে করোনা অনেক দ্রুত ছড়ায় এবং বাড়িতে কারও একজনের করোনার জন্য সর্দি-কাশি-জ্বর হলে এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে (কোনও লক্ষণ থাক বা না-ই থাক) ইতিমধ্যেই সংক্রামিত হয়ে গেছেন। তাই আমার মতে আমাদের সাধারণ ব্যবহারিক বসবাস পরিকাঠামোয় কাউকেই প্রায় সব সময়েই বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়, দরকারও নেই। দরকার হল, এমন ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় করা সর্দি-কাশির চিকিৎসায় যাওয়া। এ ক্ষেত্রে গোটা পরিবারের মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা একটা বড় কর্তব্য। এটা এই কারণেই যে সাধারণ ফ্লু ও করোনার আক্রমণের উপসর্গ প্রায় একই রকম এবং এ ধরনের উপসর্গে আমাদের দেশের পরিকাঠামোয় করোনার সংক্রমণের পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য মানুষকে নানান ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যেমন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় সাবান পানিতে হাত পরিষ্কার করা, অপরিষ্কার অবস্থায় নাকে-মুখে-চোখে হাত না-দেওয়া, ঘরের বাইরে গেলে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা, সোস্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং কাশি শিষ্টাচার মেনে চলা প্রভৃতি। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাণু-সংক্রামক বিভাগের সিনিয়র পরিচালক লিজা মারাগাকিস, তার প্রবন্ধে সামাজিক দূরত্বের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন চারভাবে:


১. অফিসের বদলে বাসায় কাজ করা, 

২. স্কুলে ক্লাস না-নিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া, 

৩. প্রিয় মানুষের কাছে সশরীরে না-গিয়ে ইলেকট্রনিক্স বস্তুর (মোবাইল) মাধ্যমে যোগাযোগ করা, 

৪. বড় ধরনের সভা-সমাবেশ বাতিল করা বা এড়িয়ে চলা।


সিএনএন-এর এক রিপোর্টে সামাজিক দূরত্বকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে তিনটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে;


১. বাসায় থাকা, ২. ভিড় এড়িয়ে চলা এবং ৩. একে অন্যের স্পর্শ এড়িয়ে চলা।


কিন্তু পাশ্চাত্য দুনিয়ার সামাজিক সম্পর্ক এবং সামাজিক দূরত্ব আর বাংলাদেশের মতো দেশের সামাজিক সম্পর্ক এবং সামাজিক দূরত্ব এক ‘জিনিস’ নয়। সামাজিক সম্পর্ক এবং সামাজিক দূরত্বের ঐতিহাসিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গকে উপলব্ধি না-করে পাশ্চাত্যের সমাজ-বাস্তবতায় নির্মিত কেবল অন্যের দেওয়া প্রেসক্রিপশন আনক্রিটিক্যালি আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় পুনরোৎপাদন করলে, ‘হিতে যে বিপরীত’ বা ‘ততোটা কার্যকর’ নাও হতে পারে, সেটা আমরা একবারও বিবেচনায় নেই নাই। সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত রেলস্টেশনে, বাস-টার্মিনালে এবং লঞ্চঘাটে ঘরমুখী মানুষের স্রোত এবং তাদের নিজের ‘বাড়ি’ বা ‘দেশের বাড়ি’ ফেরার তীব্র আকাঙ্খাাকে আমরা ‘সামাজিক দূরত্ব’র সবক ভঙ্গের নমুনা হিসেবে হাজির করছি। কিন্তু ভুলটা যে আমাদের, ওই আমজনতার নয়, সেটা আমরা কোনোভাবেই বোঝার চেষ্টা করছি না।


সামাজিকতা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক রীতিনীতি এবং সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান যে সমাজের কাঠামোকে নির্মাণ করে এবং যে সমাজের মানুষের সম্পর্কের প্লাটফর্ম তৈরি করে, সে সমাজের মানুষকে যদি ‘শারীরিক দূরত্ব’ বজায় রাখা বোঝাতে গিয়ে আমরা ‘সামাজিক দূরত্বের’ পরীক্ষা নিই, তাহলে ‘হিতে বিপরীত’ তো হবেই। কেননা, সরকারি ছুটি ঘোষণার পর মানুষ সামাজিকতা ও নারীর টানে  নিজের মা-বাবা-ভাই-বোন-আত্মীয়-পরিজন-স্ত্রী-স্বামী-সন্তান-সন্ততির কাছে নিজের ‘দেশে’ ফিরে যাবে এবং সেটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া, সরকারি ছুটি মানে ‘দেশে যাওয়া নয়’, বরং ‘বাইরে বের না-হয়ে ঘরের মধ্যে বসে থাকা’, সেটা আগে তো আমরা সবাইকে বুঝিয়ে বলিনি। মানুষগুলো যখন ‘দেশে’ চলে গেছে, তখন আমরা হা-হুতাশ করছি, আর উল্টো তাদেরকেই দোষারোপ করছি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমাদের শহরগুলো এখনও এ শ্রমজীবী মানুষগুলোর ‘দেশ’ হয়ে ওঠেনি। ফলে, ঢাকাসহ বড় বড় শহরে এসব শ্রমজীবী মানুষ এমনিতেই সামাজিক দূরত্বে (সোস্যাল ডিসট্যান্স) বাস করে। কেননা, তাদের সমাজ বাস করে তাদের ‘দেশের বাড়ি’, যেখান থেকে সে অনেক দূরে (সামাজিক দূরত্বে) জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে বাস করে।


আমাদের বলা জরুরী ছিল, ‘শারীরিক দূরত্ব’ বজায় রাখার জন্য যাতে তাদের মধ্যে ‘গা ঘেঁষাঘেঁষি’ বা ‘গা লাগালাগি’ বা ‘গা ঠেলাঠেলি’ না-ঘটে। আমাদের বলা উচিত ছিল, করোনাভাইরাস একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে ছড়ায় প্রধানত শারীরিক ছোঁয়ার মাধ্যমে। সুতরাং আমরা যত গা ঘেঁষাঘেঁষি কম করবো, গা লাগালাগি কম করবো, এবং একজন আরেকজনের সঙ্গে শারীরিক স্পর্শ কম করবো ততো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে। অতএব, আমাদের বলা উচিত ছিল, ‘গা ঘেঁষাঘেঁষি এড়িয়ে চলুন’, কিংবা একজনের সঙ্গে আরেকজনের মধ্যে অন্তত ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। আসলে মূল সমস্যা অন্য জায়গায়। ‘ঘেঁষাঘেঁষি’ বা ‘লাগালাগি’ কিংবা ‘ঠেলাঠেলি’ শব্দবন্ধের মধ্যে কেমন জানি একটা ‘গেঁয়ো গেঁয়ো গন্ধ আছে, যা ভদ্র সমাজে মানায়না। তাই, ‘সোস্যাল ডিসট্যান্স’ শব্দটা ব্যবহার করছি, কেননা এর মধ্যে একটা স্মার্টনেস আছে। আমাদের সীমাবদ্ধতা এখানেই যে, ভাষা এবং শব্দের যে শ্রেণি চরিত্র সেটা আমরা করোনাভাইরাসের মতো মহামারি মোকাবিলার সময়ও কোনোভাবে ভুলতে পারিনি। ফলে, আমরা শ্রেণি-বর্গের ঊর্ধ্বে উঠতে পারিনি।


অথচ বিবিসির সংবাদ মাধ্যম বলছে-বাতাসের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ আসতে শুরু করেছে বলে স্বীকার করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ৩২টি দেশের ২৩৯ জন বিজ্ঞানীর এক খোলা চিঠিতে এ বিষয়ে সংস্থার গাইডলাইন হালনাগাদের আহ্বান জানানোর পর এই স্বীকারোক্তি এলো। এ বিষয়টিকে বিজ্ঞানীরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে লেখা খোলা চিঠিতে প্রমাণসহ দেখিয়েছেন, বাতাসে ভাসমান একেবারে ক্ষুদ্র জলকণা থেকেও মানুষ করোনা আক্রান্ত হতে পারে। তাদের ওই চিঠি গত সোমবার ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নালেও প্রকাশ হয়। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার একটা নিউজে দেখেছিলাম- বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির ফ্লাইট বন্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে মুখ খুলেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে। এ ব্যাপাওে তার ভাষ্য হচ্ছে- ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে আসা বেশিরভাগ যাত্রীদের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হচ্ছে। এছাড়াও এদেরমধ্যে বেশিরভাগ মানুষ ইতালি ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না। এতে তাদের দ্বারা আরো মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে।


আমরা এক জরিপে দেখেছি বাংলাদেশ থেকে আসা প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ করোনা ভাইরাস বহন করে নিয়ে আসছে। এরা কিভাবে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পাড় হলো সেটা অবশ্যই ভাবার বিষয়। আমরা সুস্পষ্ট করে বলতে পাড়ি বাংলাদেশের ইমগ্রেশনে সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না’। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশিরা কোনো ধরনের পর্যবেক্ষণ ছাড়াই ইমিগ্রেশন পাড় হয়ে ইতালি এসে এখানে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটাচ্ছে । তাই আমরা বাধ্য হয়ে ফ্লাইট বন্ধ করেছি। একেকজন বাংলাদেশি একেকটা ভাইরাস বোমা। আমরা আমাদের দেশকে বোমা থেকে দূরে রাখতে আপাতত ফ্লাইট স্থগিত করেছি। এ যেন জাতির নামে ‘বজ্জাতি’ সব জাত নিয়ে তাই খেলছে জুয়া! অথচ, ঔষধ শিল্পে বাংলাদেশ অ’নেক এগিয়ে গেছে।


বাংলাদেশের বহু কোম্পানির ঔষধ এখন সারা বিশ্বে রপ্তানি হয়। ঔষধ শিল্পে বি’শ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন শ’ক্ত অবস্থানে।কো’ভিড-১৯ এর চিকিৎসায় একটি নতুন ঔষধে সাফল্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশি ও’ষুধ কোম্পানি বিকন ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড। কো’ভিড-১৯ এর প্রা’দুর্ভাব সা’মাল দিতে ফ্যাভিপিরাভির ৫০ জন ক’রোনা রো’গীর ও’পর ট্রা’য়ালও করা হয়েছে। পরিশেষে জনপ্রিয় অভিনেতা ডা: এজাজ মুন্না স্যারের একটা মন্তব্য দিয়েই আজকের লেখার ইতি টানার চেষ্টা করছি। তিনি আমাদের দেশের বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন- ‘আমাদের দেশের যা অবস্থা, তাতে করে আমাদের সতর্ক না হয়ে উপায় নেই। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে কেন যে পারি না, আমরা নিজের চোখে বিপদ না দেখলে সতর্ক হতে চাই না। এখন দেশের যে অবস্থা এখন সতর্ক না হলে আমরা ভয়াবহ খারাপ অবস্থার দিকে যাবো। আমরা পালিয়ে বাঁচতে চাইছি। আমরা ইতালি, ফ্রান্স থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে বাঁচতে চাইছি, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা থেকে পালিয়ে গ্রামে গিয়ে বাঁচতে চাইছি। এটা আসলে বাঁচা নয়, আপনি নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। একইসাথে আপনার আশেপাশের মানুষেরাও মৃত্যুর দিকে চলে আসছে আপনার কারণে। এটাকে বাঁচা বলে না, নিজেই নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। নিজের জায়গা থেকে বাঁচুন।’


তাই চলুন। সবাই একসাথে বলি, করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে এবং অন্যকে রক্ষার জন্য ‘সামাজিক দূরত্ব’ মেনে চলি।


লেখক: শিক্ষক,কবি, কলামিস্ট।

সহকারী শিক্ষক, জাহাঙ্গীরাবাদ দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পীরগঞ্জ, রংপুর।

ই-মেইল- rangasarkerjhs@gmail.com  /   rangasarker100@gmail.com.

No comments