Breaking News

হ্যাকারের ফাঁদ থেকে স্মার্টফোন নিরাপদ রাখার কৌশল


সময়ের সাথে সাথে স্মার্টফোনের চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হ্যাকারদের তৎপরতা। ফলে অনেক গোপনীয় তথ্য চলে আসছে হ্যাকারের হাতের নাগালে। তাই হ্যাকিং থেকে বাঁচতে সবসময় সতর্ক থাকা জরুরি। সর্বোপরি আপনার স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখতে অবশ্যই মেনে চলুন বিশেষজ্ঞদের এসব পরামর্শ-


পিন বা পাসওয়ার্ডের সাহায্যে ডিভাইসের স্ক্রিন লক করুন


হ্যাকার হানা থেকে বাঁচার সবথেকে ভালো উপায় হল, আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিন লক করে রাখা। তার জন্য অতি অবশ্যই জরুরি নিরাপদ একটি পিন বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। পিন/ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার ক্ষেত্রে মাথায় রাখবেন যেন এটি অত্যন্ত শক্ত (#,*,@,% ইত্যাদি চিহ্নের সাহায্যে পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখুন) হয়। হ্যাকার যাতে কোনো মতে অনুমান করতে না পারেন যে, আপনার ফোনের পাসওয়ার্ড কী হতে চলেছে! আর আপনার পক্ষে যদি পাসওয়ার্ড মনে রাখা খুবই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে প্যাটার্ন লক করে রাখুন।


ডিভাইস থেকে অ্যাপস লক করে রাখুন


শুধু পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই নিশ্চিন্তে থাকলে হবে না! তার সঙ্গেই বিভিন্ন অ্যাপস লকও করে রাখতে হবে। বিশেষ করে মোবাইল ওয়ালেট এবং অনলাইন শপিং অ্যাপসগুলো শক্ত পাসওয়ার্ডের সাহায্যে অতি অবশ্যই লক করে রাখুন। আর এটি করা খুবই সহজ। বেশ কিছু স্মার্টফোন রয়েছে, যেগুলোতে বিল্ট-ইন অ্যাপ লকিং ফাংশন থাকে। গুগল প্লে স্টোরে বেশ কিছু থার্ড পার্টি সিকিওরিটি অ্যাপস রয়েছে, যার সাহায্যে আপনার স্মার্টফোনের বিশেষ-বিশেষ অ্যাপ লক করে রাখা যায়।


বিশ্বাসযোগ্য সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন


কেবল মাত্র বিশ্বাসযোগ্য সোর্স থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করুন। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার কথা বলতে গেলেই প্রথমে গুগল প্লে স্টোরের কথা মাথায় আসবে। গুগল প্লে স্টোর থেকে থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করুন, তবে তার আগে সেই অ্যাপ সম্পর্কে যাচাই করে নিন। ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করার আগেই রেটিংস চেক করে দেখুন। আর একান্তই যদি চাপে পড়ে কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করতেই হয়, সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সেই অ্যাপের প্রাইভেসি পলিসি সম্পর্কে বিশদে জেনে নিন।


ডাউনলোড করার আগে অ্যাপ পারমিশন সম্পর্কে জানুন


অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেপ। কিন্তু সচরাচর আমরা এর গুরুত্ব দিই না। গুগল প্লে স্টোর থেকে কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে ভালো করে সেই অ্যাপের ডেসক্রিপশন পড়ুন, আপনার ফোনের কোন বিশেষ-বিশেষ ভাগের অ্যাকসেস সেই অ্যাপ নিতে চায়, তা ভালো করে যাচাই করুন। ধরা যাক, আপনি একটি পেমেন্টস অ্যাপ ডাউনলোড করতে চলেছেন। এদিকে সেই অ্যাপটি আপনার ক্যামেরার অ্যাকসেস চাইছে। আপনি ভালো করে খুঁটিয়ে না দেখেই আপনার ফোনের ক্যামেরার অ্যাকসেস দিয়ে দিলেন পেমেন্ট অ্যাপটিকে, যার কোনও প্রয়োজন নেই। পেমেন্ট অ্যাপের সঙ্গে আপনার ডিভাইসের ক্যামেরার কী সম্পর্ক, নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করুন।


অ্যানড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার ডাউনলোড করুন


হ্যাকার হানা থেকে বাঁচার অন্যতম নিরাপদ উপায় হল, আপনার ফোনে অ্যানড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার ডাউনলোড করে রাখা। গুগল প্লে স্টোরের সবথেকে উপকারী অ্যাপ এটি। এর সাহায্যে আপনি কী উপকার পেতে পারেন? আপনার অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোন যদি কখনও হারিয়ে যায়, তাহলে এই অ্যানড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার সেই ফোনটিকে খুঁজে দিতে সাহায্য করবে। হারিয়ে যাওয়া অ্যানড্রয়েড ডিভাইস খুঁজতে খুবই ভালো ভাবে কাজ করে অ্যানড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজারের ট্র্যাকিং সার্ভিস।


অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ডাউনলোড করুন


অতি অবশ্যই আপনার ফোনে অ্যান্টি ভাইরাস অ্যাপ রাখুন এবং সেই অ্যান্টি ভাইরাস অ্যাপটি ডাউনলোড করার আগে ভালো ভাবে তার রেটিং জেনে নিন। জেনে রাখুন, অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ যেমন আপনার ফোনে ম্যালওয়্যার-ভাইরাসের হানা রুখে দিতে পারে, তেমনই আবার আপনার ফোন থেকে হ্যাকারদেরও কোনও তথ্য চুরি করার সুযোগ দেয় না। তাই নতুন হোক বা পুরনো ফোন, আগেভাগে অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ইনস্টল করে নিন।


পাবলিক ওয়াইফাই


যতটা পারবেন পাবলিক ওয়াইফাই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। কারণ পাবলিক ওয়াইফাই যে আদৌ শতভাগ সুরক্ষিত কী না, তার গ্যারান্টি স্বয়ং সেই ওয়াইফাই প্রোভাইডাররাও দিতে পারবেন না। আর তার সঙ্গেই নিশ্চিত করুন যেন আপনার ফোন কোনও মতে ওয়াইফাই-এর সঙ্গে যেন অটোমেটিক্যালি কানেক্টেড না হয়ে যায়। আবার নিজের বাড়ির ওয়াইফাই-এর পাসওয়ার্ডও সুরক্ষিত রাখুন। নিশ্চিত করুন সেই ওয়াইফাই যাতে আপনি এবং পরিবারের সদস্যরা ছাড়া কোনও বাইরের লোক ব্যবহার করতে না পারেন। সে ক্ষেত্রে বাড়িতে একবার ওয়াইফাই ব্যবহার করা হয়ে গেলেই সেটি অফ করে দিন।

ব্লুটুথ সেটিংস খুব ভালো করে কনফিগার করুন


ব্লুটুথ সেটিংসের বিষয়টি খুব ভালো ভাবে নিশ্চিত করুন। তার জন্য প্রথমেই আপনার ডিভাইসটিকে নন-ডিসকভারেবল হিসেবে সেট করুন। তার একমাত্র কারণ হল, যদি আপনার ফোনের ব্লুটুথ সবসময়ে ভিজিবল থাকে, তাহলে খুব সহজেই ডিভাইসটি হ্যাকারদের গোচরে আসে এবং তা থেকে ফোনে হানা দিতে পারে হ্যাকারের দল। তাই ঠিক ওয়াইফাইয়ের মতোই আপনার ফোনের ব্লুটুথও ব্যবহার করার পর অফ করে রাখা উচিত।


ফোন রুট করবেন না


ভুলেও আপনার স্মার্টফোন কখনও রুটিং করবেন না। অ্যানড্রয়েড ফোনে রুটিং করার অর্থই হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম আনলক করা, যাতে আপনি আনঅ্যাপ্রুভড অ্যাপস ইনস্টল করতে পারেন, অযাচিত ব্লোডওয়্যার ডিলিট করা, ওএস আপডেট করা, যা ইচ্ছে তাই কাস্টোমাইজ করা। এসব করে নিজের অজান্তেই হ্যাকারদের সুযোগ করে দিচ্ছেন। স্মার্টফোন রুটিং করলে বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার আক্রমণ করতে পারে আপনার ডিভাইসে।

No comments