Breaking News

একটি মানবিক আবেদন: এত কষ্ট আর সহ্য হয়না!


একটি মানবিক আবেদন: এত কষ্ট আর সহ্য হয়না! এ টি এম আশরাফুল ইসলাম সরকার রাংগা।

ছোট একটি ঝুপড়ি ঘর। ঘরের পেছনটায় টিনের বেড়া থাকলেও দুইপাশের টিনগুলো খুলে খুলে যাচ্ছে। সম্মুখ ভাগটা একেবারেই খোলা। হু হু করে শীতের হিম-শীতল বাতাস আর কুয়াশা ঢুকছে। পাশে খড়ির মাচা। আর তার পাশেই অসহায় হয়ে মশাড়ি বিহীন বিছানায় মশার কামড় খেয়ে একাকী পড়ে রোগে কাতরাচ্ছে বন্ধু আ: হালিম। তাকে দেখার কেউ নেই।


আ: হালিম আমার ছোট বেলার বন্ধু। ছোট বেলা থেকেই ও বেশ ধার্মিক। আমরা একই সাথে জাহাঙ্গীরাবাদ দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বছর কাটিয়েছি। ছোট বেলায় ও মা বাবাকে হারিয়েছে। তাই কখনও অন্যের বাড়িতে কাজ করে বা ফেরী করে বাদাম বিক্রি কোনমতে মাধ্যমিক পাশ করে গার্মেন্টসে চাকুরী নেয় এই মেধাবী মুখটি। এরপর বিয়ে করে ফেলে। বিবাহোত্তর জীবনে ০২ ছেলে সন্তানের জনক। বড় ছেলে সিয়াম (২১), সে মোটর মেকানিক্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ছোট ছেলে সজীব (১৩) ৯ম শ্রেণির ছাত্র। কিন্তু ভাগ্য তাকে এখানেও হারিয়ে দিল। জীবনের কষ্টার্জিত প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে বউ বাবার বাড়ি চলে গেছে। সেই যে গেছে আর ফিরে আসেনা। বাচ্চাগুলোকেও নিজের আয়ত্তে নিয়ে বাবা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। অনেকবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সে তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তার ফোনটি পর্যন্ত রিসিভ করেনা তারা। বর্তমানে তার পাশে এক আল্লাহ্ ছাড়া কেউ নেই।


২০১২ সালে ঢাকা থেকে রংপুরে ফেরার পথে সন্ধ্যায় রংপুর বাস টার্মিনাল থেকে একটা রিক্সা যোগে বাসায় ফেরার পথে সে সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হয়। এত তার বাম হাতের হাড় ভেঙ্গে যায়। তার হাতটি সে আজ পর্যন্ত সোজা করে রাখতে পারেনা। এরপর এক গভীর রাতে সে তার শোবার ঘরের মেঝেতে পড়ে গেলে কোমরে মারত্মক ভাবে আঘাত পায়। এ কারণে চলতেও আর পারেনা আর। বসে থাকলে দুই উরু মনে হয় কে যেন শক্তভাবে বেধে রেখেছে; তাই এটাও আর হচ্ছেনা।


হালিমের ভাবী বলেন-


‘সারাটি রাত সে যন্ত্রণায় ছট-ফট করে আর চিৎকার করে কাটিয়ে দেয়। আর কত সহ্য করি। চোখের সামনে ওর এত কষ্ট সহ্য হয়না।‘

এদিকে গত ২৪ নভেম্বর ২০২০ সালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে সে টয়লেটে প্রবেশ করে। কিন্তু প্রায় ১০ মিনিট ধরে চেষ্টার পরেও আর উঠতে পারেনা। সে মনে করে, তার বাম দিকের হাত-পা কে যেন কেটে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে সে ঐযে বিছানায় পড়ে যায়, এখন পর্যন্ত যেন তার বিছানাই সঙ্গী। পায়ের সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলেছে সে। আর হাঁটতেই পারছেনা। এমন কি অন্যের কাঁধের ওপর ভর দিয়েও না। অন্যদিকে শীতের কারণে হাতের ব্যাথাটাও তার তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। নিজের কম্বলটা পর্যন্ত টেনে গা ঢাকতে পারেনা। তার ভাই, ভাবী এবং ভাতিজার উপর ভরসা করেই চলতে হচ্ছে। ওর ভাইয়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান-


‘ডাক্তার বলেছে ওর অপারেশন করা লাগবে। এতে প্রায় লাখ খানেক টাকা লাগবে। এ ছাড়াও ডাক্তার, ঔষুধ-পত্র, ঢাকার খরচ ইত্যাদি মিলে আরও একলাখ টাকার দরকার। এত টাকা পাব কোথায়! আমি অন্যের বাড়িতে কামলা দিয়ে উপার্জন করি। আমি আমার ভাইকে সুস্থ করাতে চাই। সবাই যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, তাহলে হয়ত আল্লাহর রহমতে ছোট ভাইকে আমার বুকে ফেরাতে পারতাম। আর কত দেখি! সময় তো পাই না। ভাবীও যেন অনেকটা সেরকম।‘


বর্তমানে ডাক্তারের পরামর্শে সে অতি কষ্টে এম আর আই করলে রিপোর্ট টা করে ফেলে। রিপোর্টে ওর মেরুদন্ডে টিউমার জাতীয় কিছু ধরা পড়ে। যার একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন। ঢাকা ছাড়া রংপুরে এই অপারেশন সম্ভব নয়; তাই ঢাকাতেই যেতে হবে তাকে। অনেক ব্যয়-বহুল এই অপারেশনে প্রায় ২ থেকে ০৩ লক্ষ টাকার প্রয়োজন।


যে মানুষটির একবেলা খাবারের উপায় নেই, সে এতগুলো অর্থ যোগাড় করবে কীভাবে? চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে অতিকষ্টে সে বলল-

“ দোস্ত, ইংরেজিতে একটা কথা আছে- “Man for man- মানুষ মানুষের জন্য। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বাঁচতে চাই। আমি সবার কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। দোস্ত, তোমরা আমাদের সাহায্য কর এবং আমাকে বাঁচার ব্যবস্থা করে দাও। আমি বাঁচতে চাই। আমি আবার নামাজে ফিরে যেতে চাই। আমি তোমাদের কাছে আর কিছুই চাইনা।“


আমাদের অনুরোধ, যদি কোন দানবীর দয়ালু ব্যক্তির এই রিপোর্টটি দেখে মন কেঁদে ওঠে, তাহলে এই মানুষটিকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য করুন। আপনার একটু সহানুভূতির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা হয়ত ফিরিয়ে দিতে পারে একটি অসহায় মানুষের জীবন।

একাউন্ট নম্বর- ৬৭৬১১৮, ইসলামী ব্যাংক জাহাঙ্গীরাবাদ এজেন্ট ব্যাংকিং। বিকাশ নম্বর- ০১৭১৭৭৪৯৮৯৮

প্রয়োজনে- ০১৭২৩১১১৪৬৮ (প্রধান শিক্ষক, জাহাঙ্গীরাবাদ দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়)

০১৭১৭৭৪৯৮৯৮ (সহ. প্রধান শিক্ষক, জাহাঙ্গীরাবাদ দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়) ,০১৭৫১২২৬১০০ (রাংগা স্যার)


লেখক: শিক্ষক, কবি, কলামিস্ট

সহকারী শিক্ষক, জাহাঙ্গীরাবাদ দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়,  পীরগঞ্জ, রংপুর।


No comments