Breaking News

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি।


হটাৎ করেই অস্ত্রের ঝনঝনানি আর গোলার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো পিলখানা।নিমিষেই স্তব্ধ হয়ে গেলো পুরো দেশ!২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সদ্যগঠিত সরকারে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট।রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তখনও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়নি সদ্যগঠিত সরকারের।

রাইফেলস সপ্তাহ উপলক্ষ্যে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ছিলো ২৫ ফেব্রুয়ারি।২৬ ফেব্রুয়ারি বর্ণিল আনন্দে শেষ হওয়ার কথা যে রাইফেলস সপ্তাহের,তার সমাপ্তি ঘটলো বিদ্রোহ আর রক্তপাতে।প্রাণ হারালো ৫৭ সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জন।

সেদিন সকাল ৯টায় দরবার হলে মহাপরিচালক শাকিল আহমদের সামনে বিডিআর জওয়ানরা তাদের নানান দাবিদাওয়া নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে।সেইসময় সিপাহি মাঈন ডিজির সামনে সর্বপ্রথম অস্ত্র তাক করে।উত্তেজনায় কাঁপতে থাকা মাঈন শেষপর্যন্ত গুলি চালাতে না পারলেও উপস্থিত জওয়ানরা তখন গুলি ছুঁড়তে শুরু করে।ব্যারাক থেকে শত শত বিডিআর জওয়ান বেরিয়ে এসে দরবার হল ঘিরে ফেলে।বৃষ্টির মতো এলোপাতাড়ি গুলিতে ছুঁড়তে ছুঁড়তে তারা পিলখানায় অরাজক অবস্থা তৈরী করে।

তারা অস্ত্রাগার নিয়ন্ত্রণে নেয়।গোলাবারুদ ও গ্রেনেডের বিস্ফোরণে পিলখানায় একচ্ছত্র আধিপত্য শুরু করে।দ্রুতগতিতে সেই বিদ্রোহের খবর ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য বিডিআর ক্যাম্পগুলোতে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সকাল ১০টার দিকে সাভার ও ঢাকা সেনানিবাস থেকে সাঁজোয়া যান এবং ভারী অস্ত্র নিয়ে পিলখানার দিকে রওনা দেয় সেনাবাহিনী।সকাল ১১টার মধ্যেই তারা ধানমণ্ডি এবং নীলক্ষেত এলাকায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেন।একপর্যায়ে বিদ্রোহীরা সদর গেট ও ৩ নম্বর গেট থেকে অনবরত গুলি ছুঁড়তে থাকে সেনা সদস্যদের দিকে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নবগঠিত সরকার বিদ্রোহ সামাল দিতে জোড় তৎপরতা শুরু করে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবিরাম প্রচেষ্টায় শাসরুদ্ধকর যুদ্ধাবস্থার অবসানও হয়।পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশ তৈরী করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলো সকল প্রচেষ্টা।পিলখানার ভিতরের পরিস্থিতি তখনও সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।গোলাগুলির শব্দে মাইকের আওয়াজ গেটের বাইরে থেকে পিলখানার ভিতরে এবং ভিতরের আওয়াজ গেটের বাইরে থেকে পরিষ্কার শোনা যাচ্ছিলো না।ফলে আলোচনার বিষয়ে ফলপ্রসু কোন অগ্রগতি হচ্ছিলো না।

রুদ্ধদ্বার একটি বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন-- যেহেতু ভিতরে গোলাগুলি চলছে,এরকম পরিস্থিতিতে মাইকের আওয়াজ তো ভিতরে পৌঁছুবে না।আর সামনা-সামনি কথা না হলে তাদেরকে রাজি করানো সম্ভব নাও তো হতে পারে।তাদের কি কথা আছে তা আমাদেরকে জানতে হবে।সরকারের প্রতিনিধিদেরকে পিলখানার ভিতরে যেতে হবে।বিদ্রোহীদেরকে আস্থায় নিয়ে ওদের প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি কথা বলতে হবে।আপনারা ফোনে ওদের প্রতিনিধিদের সাথে আমাকে কথা বলায় দেন।ইনশাআল্লাহ ওরা আলোচনায় আসবে।পিলখানায় কে কে যাবেন-বলেন।

ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাবটি একপর্যায়ে উপস্থিত সবাই সমর্থন করলেও জীবনকে মুঠোয় ভরে পিলখানায় যেতে কেউ রাজি হচ্ছিলেন না।সেখানে উপস্থিত আমাদের গিনি আপা বলে উঠলেন-

"আমি যাবো"।

তখন নেত্রী খানিকটা আশ্বস্ত হয়ে নানক ভাই,আযম ভাইয়ের দিকে তাকাতেই ওনারাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মতি দিলেন পিলখানায় যেতে।

মুজিবকণ্যার অন্যতম বিশ্বস্ত এই স্বপ্নসারথিরা ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাদা পতাকা হাতে অবশেষে পিলখানায় প্রবেশ করেন এবং হ্যান্ডমাইকে শান্তিপূর্ণ আলোচনার আহবান জানাতে থাকেন।একপর্যায়ে তাদের আহবানে সাড়া দেয় জওয়ানদের একাংশ।তারা সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে রাজি হয়।সেনাবাহিনী এবং বিডিআর বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একের পরে এক বৈঠক করে সমাপ্তি ঘটান ৩৬ ঘণ্টার ঐতিহাসিক বিডিআর বিদ্রোহের।


#ছবিতে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আযমের সাথে সাদা পতাকা হাতে পিলখানা থেকে বেরিয়ে আসছেন গাইবান্ধা-২(সদর)আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বর্তমান সংসদের মাননীয় হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি আপা।

বিঃদ্রঃ--গিনি আপার স্মৃতিচারণের অংশবিশেষের সাথে কিছু তথ্য সংযোজন করেছেন ওয়াজেদ হাসান শাওন


No comments