Breaking News

শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রণয়নের কাজ শুরু


অবশেষে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি (একক পরিচয়) দিতে প্রোফাইল প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। প্রোফাইলে একজন শিক্ষার্থীর যাবতীয় তথ্য সন্নিবেশিত থাকবে। প্রোফাইলের তথ্য থেকে তৈরি করা হবে ইউনিক আইডি। এ তথ্য নিয়েই পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র পাবে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের প্রফাইল প্রণয়নের তথ্য ছক প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) প্রোফাইল প্রণয়নের ছক প্রকাশ করা হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর আগেই শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল তৈরি ও একটি ইউনিক আইডি কোড দেয়ার মাধ্যমে ভর্তি, বদলি, বৃত্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরি, রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান, বিবাহসহ বিভিন্ন কাজে তা ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে শিক্ষার্থীদের প্রফাইল প্রণয়নের কাজ শুরু হলো। 

জানা গেছে, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল তৈরি ও একটি ইউনিক আইডি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। ‘মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রণয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর প্রোফাইল তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়। পর্যায়ক্রমে সকলস্তরের শিক্ষার্থীদের এর আওতাভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল তখন।

পরিকল্পনা ছিল, শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর হলে তার তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারে সংযুক্ত হবে। ফলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর পাওয়া সহজ হবে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য থাকলে ভবিষ্যতে তারা যখন উচ্চশিক্ষায় যাবে তখনও তাদের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা সরকারের জন্য সহজ হবে। এছাড়া বয়স পরিবর্তনের যে ঝামেলা সেটা থেকেও মুক্ত থাকা যাবে। ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে নয়টি অঞ্চলে পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে, সে উদ্যোগ আটকে গিয়েছিল সেখানেই। বছর দুয়েকপর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি আবারও তা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়। ৩১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ব্যানবেইসের পরিচালনায় সমন্বিত ‘শিক্ষা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা প্রোজেক্ট’ নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেয়া প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডাটাবেস ও ইউনিক আইডি দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে তাও বাস্তবায়ন হয়নি।

অবশেষে শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রণয়নের কাজ শুরু হলো। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রণয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এবার ইউনিক আইডি দেয়া হবে শিক্ষার্থীদের। যার তথ্য ছক প্রকাশ করা হলো। 

কর্মকর্তারা বলছেন, ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস’ (সিআরভিএস) বাস্তবায়নের আলোকে দেশের তিন কোটির বেশি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক আইডি (একক পরিচয়) দেয়ার পরিকল্পনা নেয় সরকার। পাঁচ বছর বয়সী প্রাক-প্রাথমিক থেকে ১৭ বছর বয়সের দ্বাদশ শ্রেণির সব ছাত্র-ছাত্রী পাবে এই ইউনিক আইডি। এই আইডিতে ১০ বা ১৬ ডিজিটের শিক্ষার্থী শনাক্ত নম্বর থাকবে। যেসব তথ্য ওই শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রে সাথে সমন্বয় করা হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে না।

জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রণয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল তৈরি করা হবে এবং ইউনিক আইডি কার্ড দেয়া করা হবে। ইউনিক আইডি কার্ড প্রস্তুতের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের তথ্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে অধিদপ্তর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রকাশিত শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রণয়নের ছকে শিক্ষার্থীর নাম-ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য প্রত্যয়ন করবেন শ্রেণিশিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক।

শিক্ষার্থী প্রোফাইল প্রণয়ন ছকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, উপজেলা, জেলা, ইএমআইএস নম্বর দিতে হবে। শিক্ষার্থীর নাম বাংলায় ও ইংরেজি অক্ষরে লিখতে হবে। শিক্ষার্থীর জন্ম সনদ নম্বর, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান (জেলা), জেন্ডার (নারী পুরুষ ও অন্যান্য), জাতীয়তা, ধর্ম উল্লেখ থাকতে হবে। শিক্ষার্থী কোনও শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এবং কোন শাখায় তাও উল্লেখ করতে হবে রোল নম্বরসহ। কাব স্কাউট সদস্য কিনা তাও জানাতে হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে বাক প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শ্রবণ প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধী তা উল্লেখ করতে হবে। উল্লেখ করতে হবে শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপ। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী হলে গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রথমে মা ও পরে বাবার নাম বাংলায় এবং ইংরেজিঅক্ষরে লিখতে হবে। এনআইডি নম্বর অথবা জন্ম-নিবন্ধন নম্বর, মোবাইল নম্বর, জন্ম তারিখ এবং মাতা ও পিতার পেশাসহ মৃত কিনা তাও উল্লেখ করতে হবে। পিতা মাতার অবর্তমানে অভিভাবকের তথ্য দিতে হবে একইভাবে দিতে হবে। অভিভাবকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে।

শিক্ষার্থীর বর্তমান ঠিকানা বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা, পোস্ট অফিস ও পোস্ট কোড। সিটি করপোরেশন হলে বাসার হোল্ডিং নম্বর, ওয়ার্ড মহল্লা, রাস্তার নাম নম্বর পোস্ট অফিস ও পোস্ট কোড নম্বর উল্লেখ করতে হবে। শিক্ষার্থীর যাবতীয় তথ্য শ্রেণি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক প্রত্যয়ন করবেন। প্রত্যায়নকারী শিক্ষকের নাম মোবাইল নম্বর ও এনআইডি নম্বর নির্ধারিত ছকে পূরণ করতে হবে।

উৎস - দৈনিক শিক্ষা 

:

No comments