Breaking News

উন্নয়ন ও বেকারত্ব।


লেখকঃ Sirajul Islam

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এক যুগের বেশী সময়। এই সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে অভুতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ যে সফলতা দেখিয়েছে, সেটা দেখে সারা বিশ্ব অবাক। এখন সারা বিশ্বের বিস্ময় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব,বিচক্ষণতা,সততা ও দূরদর্শিতা। বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র অবকাঠামোর উন্নয়নকেই প্রাধান্য দেননি, যাতে দেশে শিল্প-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয় সেজন্য সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি একশত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

ইতোমধ্যেই ১০/১২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্হাপিত শিল্প-কারখানায় স্বল্প পরিসরে উৎপাদন শুরু হয়েছে। 

২৮ টির উন্নয়ন কাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে। 

সারাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার মুল কারন হল মানুষের দার-গোড়ায় চাকুরী, ব্যবসাসহ বিভিন্নভাবে কর্মক্ষম ব্যক্তিদের আয় বাড়ানো, সামাজিক স্হিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বৈষম্য কমানো এবং বেকার সমস্যা সমাধান করা।কর্মহীন মানুষকে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করা।  

২০৩০ সাল নাগাদ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই ৯৩ টি অনুমোদন পেয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে(ভার্চুয়াল সভায়) ২০আগষ্ট ২০২০ বেজার বোর্ড সভায় ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন পায়। 

সেগুলো হল,

১।ঢাকার নবাবগঞ্জে নবাবগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল,

২।টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে টাঙ্গাইল অর্থনৈতিক অঞ্চল,

৩। নওগাঁয় সাপাহার অর্থনৈতিক অঞ্চল, 

৪।দিনাজপুর সদরে দিনাজপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, 

৫।নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নোয়াখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল, 

৬।চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সন্দ্বীপ অর্থনৈতিক অঞ্চল, 

৭।সুনামগঞ্জের ছাতকে সুনামগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল

৮।পাবনার বেড়ায় পাবনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, 

৯।বরিশালের হিজলায় চরমেঘা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও 

১০।মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মানিকগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল।

শুনেছিলাম পীরগঞ্জেও একটি হবে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ী এবং পীরগঞ্জের এমপি মহান জাতীয় সংসদের স্পীকার তিনিও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

তবুও কি আমরা ১০০ থেকে বঞ্চিত হব ?

অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে সেখানে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্হান হবে। হাজার হাজার কর্মজীবি মানুষের কলকাকলীতে আরও হাজারো আয়ের পথ খুলে যাবে, সৃষ্টি হবে নতুন দিগন্ত।  জমির মুল্য বৃদ্ধি পাবে, মানুষের আয় বাড়বে,কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ভাল দাম পাবে,হাঁস- মুরগী, গরু-ছাগল, ডিম-দুধ সহ সকল পণ্যের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হবে। 

যারা জীবন-জীবিকার তাগিদে পীরগঞ্জ ছেড়ে ঢাকা বা অন্য কোথাও মানবেতর জীবন যাপন করেন তারাও মাথা উঁচু করে বাড়ীতে থেকেই কাজ করতে পারবে। 

হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার তরুন-তরুণীর কর্মসংস্হান হবে। 

পীরগঞ্জেও অনেক উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছে ,অনেক অবকাঠামো তৈরী হয়েছে কিন্তু এগুলির অর্থনৈতিক সুফল খুব সামান্যই ভোগ করবে পীরগঞ্জবাসী। 

কারন এই সকল অবকাঠামো নির্মাণে যে পরিমান জমি ব্যবহার করা হয়েছে,সে তুলনায় এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে পীরগঞ্জের মানুষ সরাসরি তেমন উল্লেখযোগ্য কেউ কাজের সুযোগ বা চাকুরী পায় নাই।

পীরগঞ্জের মানুষের যত বড় আশা ছিল, সে অনুযায়ী উন্নয়নও হয় নাই। 

পীরগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান সমুহে পীরগঞ্জের মানুষ তেমন চাকুরী পায় নাই। সাধারণত ছোট ছোট পদগুলোতে স্হানীয়রা অগ্রাধিকার পায়।

কেন এমন হল ?

এজন্য কার কাছে অভিযোগ করবো ?

ন্যাশনাল সার্ভিস সরকারের পাইলট প্রকল্পে আমাদের পাশের থানা মিঠাপুকুরে কাজ পেয়েছে প্রায় ১১ হাজার বেকার তরুন-তরুনী আর পীরগঞ্জে পাঁচ হাজারে কিছু কম বা বেশী। 

আমরা এত কম পেলাম কি কারণে ?

রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং অবকাঠামো তৈরী করলেই উন্নয়ন হয় না। টেকসই উন্নয়নের জন্য সবার আগে প্রয়োজন মান সম্পন্ন শিক্ষা,কর্মসংস্হান, বেকারত্ব হ্রাস এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। 

আমরা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্হান দুইটাই চাই। 

সমস্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট এলকার এমপি বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখেছেন। 

আমরাও উন্নয়ন ও কর্মসংস্হান সৃষ্টিতে আমাদের জনপ্রতিনিধির আরও বলিষ্ঠ ভুমিকা দেখতে চাই। 

পুনশ্চঃ যদি ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটিও আমরা না পাই তাহলে আমরা ৫০ বছর পিছিয়ে থাকবো।

No comments