Breaking News

হেফাজতে ইসলাম বনাম মুহাম্মদ (সাঃ) এর ইসলাম (পর্ব-০১)


ইসলামের উদ্দেশ্য ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি। ইসলামি জীবনাদর্শ বিশ্বের সব মানুষের জন্য। ইসলামের লক্ষ্য হলো  সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

মানুষের জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর হেফাজত করার নাম ইসলাম। 

ইসলামি আদর্শই মানুষের মৌলিক চাহিদা ও মৌলিক অধিকারের একমাত্র রক্ষাকবচ। ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

ইমান আনার ব্যাপারে বলপ্রয়োগ প্রযোজ্য নয়। ইমান বা বিশ্বাস ইসলামি আদর্শ ও জীবনব্যবস্থার ভিত্তি। এই ইমান আনার ক্ষেত্রে ইসলামে বলপ্রয়োগের বা জবরদস্তির কোনো সুযোগ নেই। মানুষের কাছে সত্য ও মিথ্যার, ন্যায় ও অন্যায়ের, হেদায়েত ও গোমরাহির বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে তুলে ধরা ছিল নবী-রাসুলগণের দায়িত্ব। ইমান আনা না-আনার বিষয়টি মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও ইচ্ছার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘দীন সম্পর্কে জোর-জবরদস্তি নেই; সত্য পথ ভ্রান্ত হতে সুস্পষ্ট হয়েছে। 

যে তাগুতকে অস্বীকার করবে, আল্লাহে ইমান আনবে, সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে, যা কখনো ভাঙবে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৫৬)। 

আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ঘোষণা করেছেন: ‘বলো, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে; সুতরাং যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক ও যার ইচ্ছা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করুক।’ (সূরা-১৮ কাহাফ, আয়াত: ২৯)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘প্রত্যেক মুসলমান একে অন্যের ভাই, কেউ কারও ক্ষতি করে না বা অন্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।’ (বোখারি)।

ইসলাম শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। এ ব্যাপারে আল-কোরআনে বলা হয়েছে: ‘হে মুমিনগণ! আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকবে; কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদিগকে যেন কখনো সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। সুবিচার করবে, ইহা তাকওয়ার নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় করবে। 

তোমরা যা করো, নিশ্চয় আল্লাহ তার সম্যক খবর রাখেন।’ (সূরা-৫ মায়িদাহ, আয়াত: ৮)। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) পরম শত্রুর সঙ্গেও ভালো আচরণ করেছেন। এ ছাড়া তিনি অমুসলিমদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলতেন। তিনি তাদের সঙ্গে লেনদেন করেছেন এবং শ্রমের বিনিময়ও করেছেন।পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করা ইসলাম-সমর্থিত নয়। 

ইসলাম অতর্কিতভাবে কখনো কারও ওপর আক্রমণ চালানোর অনুমতি দেয় না। 

ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) সিরিয়ায় সৈন্যবাহিনী পাঠানোর সময় তাদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন: নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা করবে না, লাশ বিকৃত করবে না, সাধু-সন্ন্যাসী ও তপস্বীদের কষ্ট দেবে না; কোনো উপাসনালয় ভাঙচুর করবে না। পশুসম্পদ, ফলবান বৃক্ষ ও ফসলের ক্ষতি করবে না; প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে না। যারা আনুগত্য স্বীকার বা আত্মসমর্পণ করবে, তাদের জানমালকে মুসলমানদের জানমালের মতো নিরাপত্তা দেবে।

(চলবে)

লেখকঃ Sirajul Islam

No comments