Breaking News

রংপুরে আত্মহত্যার ২ মাস পর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল


রংপুরের বদরগঞ্জে মাস দুয়েক আগে আত্মহত্যা করে এক স্কুলছাত্রী। সম্প্রতি ওই কিশোরীকে ধর্ষণের একটি ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হয়। এরপরেই লোকলজ্জায় ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেন ওই শিক্ষার্থীর মা।

তবে পুলিশ বলছে, মেয়েটি রংপুর মেডিকেলে মারা যাওয়ার পর কোতোয়ালি থানায় একটি ইউডি (অস্বাভাবিক মৃত্যু) মামলা থাকলেও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। ভিডিও ফাঁসের কথা শুনলেও তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সোমবার (৮ মার্চ) মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। মূল ঘরে তালা ঝুলছিল।

প্রতিবেশীরা জানান, গত সপ্তাহখানেক ধরে বাড়িতে কেউ নেই। আট বছর আগে স্বামী মারা গেলে বড় দুই মেয়ের বিয়ে দিয়ে সবার ছোট মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন তার মা। গত ৫ জানুয়ারি নবম শ্রেণির এক ছাত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে মারা যান। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, মেয়েটি বিষপান করেছিল। তার লাশের ময়নাতদন্তও করা হয়। সে সময় মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে এমন কথাই জানায় পরিবারের সদস্যরা। একই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় শ্মশানঘাটে মেয়েটির মরদেহ দাহ করা হয়।স্কুলছাত্রীর চাচা বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। 

মেয়ের মা বলেছিল মোবাইল কিনে না দেওয়ায় সে অভিমানে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু এখন অন্য কথা শুনছি।ফাঁস হওয়া ৪ মিনিটের ফুটেজে একটি ঘরে লোহানীপাড়া ইউপি সদস্য ইউনুস আলীর ছেলে হাফিজুর রহমানের সঙ্গে মেয়েটির অন্তরঙ্গ ভিডিওর সঙ্গে কিছু কথোপকথন শোনা যায়। ভিডিওটি দেখে বোঝা যায় একই ঘরে খাটের আড়াল থেকে ভিডিওটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে। একসঙ্গে দুজনের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ হয়েছে। এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন, হাফিজুরের অন্তরঙ্গ বন্ধু প্রতিবেশী কালিপদ মাস্টারের ছেলে বিপুল চন্দ্রের মোবাইল ফোনে হাফিজুর ও ওই কিশোরীর ছবি থাকার কথা জানতে পেরে মাস দুয়েক আগে রাসেল, শহীদুল ও ফজু মেম্বার বিপুলকে ধরে তার মোবাইল ফোন থেকে একটি মেমোরি কার্ড কেড়ে নেয়। তারপরই এলাকার অনেকের মোবাইলে ভিডিওটি চলে যায়। এরপরই মেয়েটি আত্মহত্যা করে বলে জানায় এলাকার অনেকেই।স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলার রহমান ফজু মিয়া একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর মেয়েটি আত্মহত্যা করে বলে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন। 

অভিযুক্ত হাফিজুরের বাবা ইউনুস আলী জানান, তার ছেলে আগে দুটি বিয়ে করে তালাক দেওয়ায় আগেই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানেন না বলে দাবি করেন ইউনুস আলী। ভিডিও ধারণ করা বিপুল চন্দ্রকেও বেশ কিছুদিন থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরিবার জানিয়েছে, সে কোথায় আছে তা তারা জানেন না। ভিডিও ধারণের বিষয়েও কিছু জানেন না তারা। পরিবারের দাবি, বিপুলের মাথা খারাপ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ওই সময় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এখন নিহতের পরিবারের কেউ একজন অভিযোগ করলে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা নেওয়া যাবে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার জানান, তিনি ঘটনাটি শোনার পর বদরগঞ্জ থানার ওসিকে ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। পরিবার যাতে ভয় না পায় সেজন্য পুলিশ নিরাপত্তা দেবে বলেও জানান এসপি। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দিলে থানা তা গ্রহণ করবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলেও নিশ্চিত করেন বিপ্লব কুমার সরকার।

সূএ :সময় নিউজ

No comments