Breaking News

একজন স্বপ্না রানীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প


আকাল মঙ্গা উত্তরের জনপদের মানুষের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে ছিল।  প্রেক্ষাপট এখন আর তেমনটি নাই। জীবন ও জীবিকার সাথে সংগ্রাম করে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছে এ অঞ্চলের মানুষ। জীবন ও জীবিকার সাথে লড়াই করে জীবনমান উন্নয়ন করার নামই সংগ্রাম।  

এমনই একজন সংগ্রামী নারী রংপুর উপজেলার পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রজাপাড়া মৌজার চার রাস্তার মোড়ে সুপদ ষ্টোরে সবারই চোখ যাবেই।  সুপদ ষ্টোর নাম হলেও এখানে সুপদ বসে না বসে স্বপ্না রানী। আজ এই স্বপ্না রানীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা জানেন না অনেকেই। 

স্বপ্না রানী বয়স ৪৫ থেকে ৪৮ বছর। দুই সন্তানের জননী।  ১ ছেলে ১ মেয়ে দুসন্তানেরই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। অভাব অনাটনের সংসার ছেলে মেয়েকে পড়াশুনা করাতে পারেনি।  

ছেলের বাউন্ডুলেপনা লেখাপড়া হয়নি।  ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এনজিও থেকে লোন নিয়ে দোকান করে দেন ২০১২ সালে। ছেলে দোকানের পুজিসহ শেষ করে নিমিষেই। ছেলের দোকানের ভার ও লোনের দায়িত্ব নেন মা স্বপ্না রানী। স্বামী কাঠমিস্ত্রী সুপদের একার পক্ষে সংসারের খরচ চালানো সম্ভবপর হয়ে উঠে না প্রথম থেকেই। 

স্বপ্না রানী ঠিকা বুয়ার কাজ ছেড়ে দিয়ে হাল ধরেন চার মাথায় মুদি দোকানের। দোকানের লোনপেরিশোধ করে রাত দিন পরিশ্রম করে দোকনকে প্রতিষ্ঠিত করে। বর্তমানে সুপদ ষ্টোরে লক্ষাধিক টাকার পন্য আছে।  

এ প্রসঙ্গে স্বপ্না রানীর স্বামী সুপদ জানায়, ক্লাস ৫ থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে উঠার সময় আমি তাকে বিয়ে করি। দু হাতের উপর দিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হওয়ায় স্বপ্না মানুষের বাড়ীতে কাজ করত।  ছেলেটা কারও কোন কথা শুনত না অনেক টাকা পয়সা নষ্ট করে সংসারে অভাব দেখা দিত। একপেট আধা পেট খাবার খেয়ে থাকতে হতো সবাইকে।  

এখন ভগবানের কৃপায় অভাব অনাটন তেমন নাই।  এ দোকন দিয়েই আমাদের সংসার ভালভাবেই চলছে।বর্তমানে আমাদের এনজিও -লোন আছে  প্রায় এক লক্ষ টাকা।

লেখাঃ Pirgonj-News-24com

No comments