Breaking News

যথাসময়ে নির্বাচন এবং ব্যত্যয় !!!!!


করোনা মহামারীর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। 

কিন্তু কতদিন আটকে রাখা যাবে নির্বাচন, আইনে তা স্পষ্ট নয়। 

সময় মতো ভোট না হলে বিদ্যমান পরিষদ সর্বোচ্চ ৯০ দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে বিধান থাকলেও এর পরে কী হবে, আইনে তা পরিস্কার করে বলা হয়নি। 

তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনের স্প্রিট হচ্ছে,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং কোন কারনে নির্বাচন  না হলেও আইনের লঙ্ঘন হবে না। 

সেক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিষদই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্দেশ প্রদানও করতে পারবে।

ইউনিয়ন পরিষদে যেহেতু প্রশাসক নিয়োগ করা যায় না,তাই যতদিন পর্যন্ত নির্বাচন করা না যায়,ততদিন পর্যন্ত বর্তমান পরিষদই দায়িত্ব চালিয়ে যাবে। 

শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রেই নয়,সকল নির্বাচনের ক্ষেত্রেই এটাই হচ্ছে আইনের স্প্রিট বা প্রথা। 

কারন এটা কোন নিয়োগ নয়,তাঁরা নির্বাচিত। 

নির্বাচন শব্দটা যেখানে উল্লেখ আছে, যদি আইনে সুস্পষ্ট করে কিছু বলা না থাকে, তাহলে সেখানেও আইনের স্প্রিট বা প্রথা  সকলেই মানতে বাধ্য।

অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিষদই দায়িত্ব চালিয়ে যাবে।কারন ভোট ছাড়া পরিষদ বিলুপ্ত করা যায় না। 

দেখা যাক এ বিষয়ে আইন ও বিশেষজ্ঞরা কি বলেন ?

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিষয়ে আইনের ২৯ (৩) ধারায় বলা আছে— ‘পরিষদ গঠনের জন্য কোনও সাধারণ নির্বাচন ওই পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ হতে ৫ (পাঁচ) বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০  দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।’ অর্থাৎ বর্তমান পরিষদের নির্বাচন যে তারিখে হয়েছে, তা হতে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন ভোট হতে হবে।

দেশের সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের বেশির ভাগেরই ভোটের সময় পার হয়ে গেছে।  প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ প্রথম দফায় ৭২৫টি, ৩১ মার্চ ৬৪৪টি, ২ এপ্রিল ৬১৫টি, ৭ মে ৭০৩টি, ২৮ মে ৭১৮টি এবং ৪ জুন ৬৯৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখিত ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব(আইন) বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনার জন্য মেয়াদ শেষে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পরিষদ পরিচালনার কথা রয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘আইনের স্পিরিট হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট করতে হবে। অবশ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট না হলে আইনের ব্যত্যয় হবে না ।’

তিনি জানান, অন্যান্য  পরিষদের ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠকের তারিখ ধরে ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ববর্তী ৯০ দিন বা ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার কথা, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন থেকে ৫ বছর পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করতে হবে। 

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনে যেহেতু কোনও বিধান নেই, ফলে বর্তমান পরিষদই এটা চালিয়ে নিয়ে যাবে। কারণ, পরিষদ তো বিলুপ্ত করা যাবে না।’

 নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম  বলেন, ‘যথাসময়ে নির্বাচন না হলে আইনের ব্যত্যয় হবে কিনা, তা আইনের ব্যাখ্যা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। আইনে বলা আছে -

ভোট না হলে আগের পরিষদ দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হবে। এখানে কোনও লিমিট দেওয়া নেই।’

ভোটের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কার্যত একটি ইমার্জেন্সির মধ্যে রয়েছি। এই অবস্থায় তো কোনও কিছু করার সুযোগ নেই। 

ইমার্জেন্সি না থাকলে আমাদের তো ভোট করার বাধ্যবাধকতা থেকে যায়। 

 স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ইউনিয়ন পরিষদ শাখা)  বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের ভোট না হলেও আইনি কোনও জটিলতা হবে না। ভোট করা সম্ভব না হলে কি হবে, তার সমাধান আইনেই বলা আছে এবং আইনের স্প্রিট বা প্রথা দেখলেই বুঝা যায়।’

প্রসঙ্গত, ‘ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০০’ এর ১০১ ধারায় আইনের অসুবিধা দূরীকরণের বিষয়ে বলা হয়েছে— ‘এই আইনের বিধানবলী কার্যকর করবার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে, আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।’

কিছু মানুষ  মনে করছেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ইউনিয়ন সচিব পালন করবে,তারা ভুল করছেন। 

কিছু শিক্ষিত মানুষ,কিছু উচ্চ পদস্হ সরকারি সাবেক আমলা এবং সমাজের তথাকথিত কিছু স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী বলেন পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে একদিনও চেয়ারে থাকতে পারবে না।

তাঁরা কি বুঝেশুনে এসব বলেন এবং করেন ?

আপনারা জানেন না বা  দেখছেন না ?

 দেশের সকল মেয়াদ উত্তীর্ণ ইউনিয়নের দায়িত্বে চেয়ারম্যান না ইউনিয়নের সচিব ?

অবশ্যই মেয়াদ উত্তীর্ণ চেয়ারম্যানগণ এবং পরিষদই যথারিতী দায়িত্ব পালন করছেন। 

অতএব যারা পরবর্তী নির্বাচন করার জন্য বা ক্ষমতা দখলের জন্য মুখিয়ে আছেন, সকলকেই অপেক্ষা করা এবং ধৈর্য ধারন করার আহ্বান জানাচ্ছি। 

সবুরে মেওয়া ফলতেও পারে। 

আল্লাহ সকলকে করোনা মহামারী থেকে হেফাজত করুন। 

আমীন।

লেখকঃ সিরাজুল ইসলাম

No comments