Breaking News

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম কারিগর ইউডিসি উদ্যোক্তারা


১৬,১০০ জন সহকর্মীর মাধ্যমে আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সুফল ভোগ করতেছি গ্রাম পর্যায়ে 

কি কি অবদান রেখেছি আমরা ????? একবার ভাবুন

১। নাগরিকদের জীবনমান পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিটাল সেন্টার ২০১৪ সালে ই-গভর্নমেন্ট ক্যাটাগরিতে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU)-এর ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (WSIS) অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।

২। করোনা কালীন সময়ে যখন মানুষের করোনার ভয়ে ঘড়ে বন্ধি ছিল তখন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা দিন রাত পরিশ্রম করে সরকারের প্রনোদেনা ২৫০০ টাকা এবং ত্রান বিতরনের কঠোর পরিশ্রম করিছি।

৩। ২৫ হাজার ও বেশি জাতীয় তথ্য বাতায়ন যাহা সারা বিশ্বের প্রথম স্থান অধিকার করে আছে বাংলাদেশ

৪। সরকারের বিভিন্ন ডাটাবেজ যেমন বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা 

৫। ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে গড়ে ২৫০+ গ্রামের মানুষ সেবা গ্রহন করছে

৬। ৩৩৩ কল সেন্টারের মাধ্যমে করোনা কালীন সময়ে খাদ্য সহায়তার কাজ করেছে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা

৭। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ॥ প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গড়তে দক্ষ জনশক্তি খুবই প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া ইউডিসির একটি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা। ৩ হাজার ৭৭৮ ইউডিসি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেবা দিচ্ছে। এক লাখের বেশি তরুণ-তরুণী ইউডিসি থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

৮। বিদ্যুত বিল ॥ বিদ্যুতের বিল জমা দিতে এখন আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলায় বা থানায় যেতে হয়না। উল্টো জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হাজির হয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)।

ইউডিসি’র মাধ্যমে তারা এই বিল আদায় করছে। এ পর্যন্ত ৫ লাখ ১০ হাজারটি বিল অনলাইনে জমা পড়েছে।

৯। বীমা সেবা ॥ রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠান- জীবন বীমা কর্পোরেশন গ্রামের প্রান্তিক মানুষকে দিতে ইউডিসিতে জীবন বীমা সেবা চালু করেছে। এ পর্যন্ত ২,৭৬৮ ইউডিসি থেকে মোট ৩৬ হাজার নাগরিক বীমা সেবা গ্রহণ করেছেন।

১০। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ॥ প্রত্যন্ত অঞ্চল আর তৃণমূল মানুষ ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত। তাদের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে একযোগে কাজ করছে বেসরকারী ব্যাংক Ñডাচ-বাংলা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। দেশের ৩ হাজার ৮ ইউডিসি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার নাগরিক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করেছেন।

১১। ৭ কোটি জন্ম নিবন্ধন ॥ এখন প্রতিটি শিশুর জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির নিবন্ধনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইউডিসিগুলো এ পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি জন্ম নিবন্ধন করেছে।

১২। স্বাস্থ্যসেবা ॥ গ্রামীণ জনপদের মানুষ অবস্থানগত কারণেই স্বাস্থ্য সুবিধা বঞ্চিত থাকে। তাদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সুবিধা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতর। তাদের সহায়তায় ৩০ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে দেয়া হচ্ছে টেলিমেডিসিন সেবা। এছাড়া প্রায় ৫শ’টিরও বেশি ইউডিসিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য ক্যাম্প চালু রয়েছে।

১৩। কৃষিসেবা ॥ ইউডিসি থেকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায়ন হচ্ছে গাঁয়ের গরিব চাষীর। এতে বাড়ছে তার কৃষি উৎপাদন এবং উপার্জন। ইউডিসি থেকে কৃষি উপকরণ বিতরণের কার্ড তৈরি করা হয়। এছাড়া যে কোন নাগরিক উপজেলা বা জেলা অফিসে না গিয়েও জমির পর্চার নকলের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন ইউডিসিতে। এতে তার সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। এ পর্যন্ত ইউডিসিগুলো থেকে সাড়ে ৪ কোটি পর্চার আবেদন করা হয়। ৩৫০ ইউডিসিতে স্ট্যাম্প বিক্রি করা হয়।

১৪। শিক্ষাসেবা ॥ একটা সময় ছিল গ্রামের শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন করতে যেতে হতো শত মাইল পাড়ি দিয়ে। সেখানেও অপেক্ষা করতে হতো দীর্ঘ লাইন ধরে। এর পরও দালালচক্রের নানা প্রতারণা। এখন তা মাত্র একটা এসএমএসের বিষয়। বাড়িতে বসেই এসএমএসের মাধ্যমে করতে পারছেন এই কাজ। উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী ছাত্র বা অভিবাসনে আগ্রহী শ্রমিক ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ইংরেজী শেখা ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেও একজন সাধারণ মানুষ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চাকরি বা উচ্চ শিক্ষার সাক্ষাতকার অথবা চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। চাকরি নিয়ে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক ২০ লাখ ২৫ হাজার কর্মী নিবন্ধিত হয়েছে। ২৭০ ইউডিসিতে পাসপোর্ট, ভিসা আবেদন, ভিসা চেকিং সেবা দেয়া হয়। ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেল ও ভিডিও কল সেবা নিয়েছে দেড় লাখেরও বেশি বার।

১৫। দুর্যোগ পূর্বাভাস ॥ ভূ-প্রাকৃতিক কারণে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এছাড়া রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। তাই যে কোন দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্থানীয় দুর্যোগ পূর্বাভাস জানার সুযোগ পাচ্ছেন।

উদ্যোক্তা তৈরি ও নারীর ক্ষমতায়ন ॥ প্রতিটি ইউডিসি উদ্যোক্তাই ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার কার্যকর করার নেপথ্যের কারিগর। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকেন দু’জন করে উদ্যোক্তা। একজন ছেলে ও একজন মেয়ে। একজন নারী উদ্যোক্তা থাকার ফলে কেন্দ্রে নারীদের সহজে প্রবেশগম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্যোক্তা একজন বিনিয়োগকারী, চাকরিজীবী নয় এবং জনগণকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত আয় থেকেই উদ্যোক্তা তার জীবিকা নির্বাহ করেন। দেশের মোট ৫ হাজার ৪৭৫ কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার ৯৫০ তরুণ আইসিটি উদ্যোক্তার আত্মকর্মসংস্থান হয়েছে।

১৬। প্রাণের সঞ্চার ইউপিতে ॥ এক সময়ে মানুষের ধারণাই ছিল, ইউনিয়ন পরিষদ নিয়মিত খোলা হয় না। ইউনিয়ন পরিষদ খুব বেশি ব্যবহার হতো না। কেবল গ্রাম্য সালিশ-বিচারের কাজে ইউনিয়ন পরিষদ মাঝেমধ্যে ব্যবহার হতো।

অনেক চেষ্টা করেও প্রাচীনতম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করা যায়নি। ‘জনগণের দোরগোড়ায় সেবা’ সেøাগান সামনে রেখে ইউডিসির যাত্রা শুরু হয়। ইউডিসি চালু হওয়ার পর সেই ধ্যান-ধারণা বদলে যায়। এর মূল লক্ষ্য হলো ইউনিয়ন পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা; যাতে ২০২১ সালের মধ্যে তথ্য ও জ্ঞানভিত্তিক দেশ প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে এই প্রতিষ্ঠান। সরকারী-বেসরকারী তথ্য ও সেবাদানের মাধ্যমে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে ইউনিয়ন পরিষদকে। তাই মানুষকে এখন সেবার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে না, উল্টো সেবাই এখন পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায়। ইউনিয়ন পরিষদ এখন মানুষের তথ্যসেবার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এছাড়াও ইউনিয়নের পরিষদের সকল কাজ তো করতেই হয় দিন রাত 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল সন্তান হলো ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা। তাই ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের পিছনে লেগে কোন লাভ হবে না ইনশাআল্লাহ 

ভূল কিছু লিখে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

মোঃ সায়হান সৈকত

উদ্যোক্তা

কুলাঘাট ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার

সদর, লালমনিরহাট।


No comments