Breaking News

'চোক দুটা খালি খচখচ করে'


চোক দুটা খালি খচখচ করে, চুলক্যায়। পানিও পড়ে। ভালো করি দ্যাকোও না। ম্যালাদিন ধরি এ্যাংকা চোক নিয়া খুব কষ্ট হওচে। ট্যাকা-পইসার অভাবে ডাক্তারো দ্যাকপার পারো নাই। আজ ট্যাকা ছাড়াই চোক দ্যাকানু, ওষুদও দিলি। কথাগুলো থেমে থেমে বলছিলেন ষাটোর্ধ বৃদ্ধা খুকী মাই। পীরগঞ্জের শানেরহাট ইউনিয়নের দামোদরপুর থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। 

শুক্রবার (১১ মার্চ) দিনব্যাপী উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নে কে.জে ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির করা হয়। সেখানে রোগীদেরকে বিনামূল্যে ব্যবস্থাপত্র, ওষুধ ও অপারেশনের ব্যবস্থাও করা হয়। বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক কাজী জওয়াহেরুল (কে.জে) ইসলাম ও তার পরিবারের আয়োজনে ওই চক্ষু শিবিরে ৫ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। 


চিকিৎসা নিতে এসেছেন উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের মিঠিপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেন (৫৫), শানেরহাট ইউনিয়নের খামার সাদুল্লাপুরের নুরুন্নবী মিয়া (৬০), খোলাহাটি ঘোনপাড়ার মেরি বেগম (৬২)। তারা জানান, কেজে ইসলাম ভাই এর আগেও ২ বার চোকের ডাক্তার আনি বিনা ট্যাকায় মানষোক চেকেৎসা দিচে। আল্লাহ তাক ভালো থুক। 

কলেজটির বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে এ্যাপ্রন পরিয়ে সেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা চক্ষু রোগীদেরকে রেজিষ্ট্রেশন, চেকিং এবং ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে তারা রোগীদেরকে ওষুধ নেয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছেন। কলেজটির দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জান্নাতি সেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে দেখা গেল, খুব চটপটে দায়িত্ব পালন করছেন। কথা হলো তার সাথে। নাম পরিচয় দিয়ে বললেন, রোগীদেরকে সেবা দিচ্ছি। পরে কতা বলবো ভাই, বলেই দ্রুত রোগীর কাছে ছুটে গেলেন। তার মতো মোফাজ্জল হোসেন, সোহেলও সেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করছেন। 


ওই চক্ষু শিবিরে ৩ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং ৫ জন মেডিকেল অফিসার চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। রংপুর দ্বীপ আই কেয়ার ফাউন্ডেশনের ডাঃ মুশফিকুর আলম, রংপুর মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের ডাঃ দিপক রায়, ডাঃ শামীম মিয়া, রংপুর কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতালের ডাঃ আহসানুজ্জামান নারী ও পুরুষ বুথে চিকিৎসা প্রদান করেন। ডাঃ শামীম বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান সমাজসেবার পাশাপাশি ইবাদতও হয়। এতে অনেক অস্বচ্ছল মানুষ চিকিৎসা পান। 


কাজী জওয়াহেরুল ইসলাম বলেন, চোখ মানুষের অমুল্য সম্পদ। কারো চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে আল্লাহর দুনিয়ার সৃষ্টি তিনি কম দেখেন। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই আমি চক্ষু শিবিরের আয়োজন করেছি। এ ছাড়াও আমি মানব কল্যানের পাশাপাশি শিক্ষার আলো ছড়াতে কাজ করি।

পোস্টঃ গোলাম কবির বিলু

No comments