Breaking News

♥ জীবন থেকে নেয়া (গল্প হলেও সত্যি) ♥


মে মাস জুড়ে কোকিল দিন-রাত মধুর সুরে ডেকেই চলেছে গাছের ডালে ডালে। কোকিলের ডাক শুনতে ভাল লাগলেও আজ মোটেও ভাল লাগছে না সাগরের।

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত ব্রাশ করতে করতে ওয়াশরুমে ঢুকেছে সে। সাবিনার এখনও ঘুম ভাংগেনি।একমাত্র পুত্র সন্তান সিমুলকে নিয়ে দক্ষিণের বড় ঘরটিতে আয়েশ করে ঘুমুচ্ছে দু'জন।শালবন মিস্ত্রীপাড়ার পাঁচতলা ফ্লাটের তৃতীয় তলার "গ" ইউনিটে পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া থাকে সাগর।এ দিকটায় কম টাকায় ভাল বাসা পাওয়া যায়। প্রায় এক বিঘা জমির এক কোণে ফ্ল্যাট বাড়িটি বাদে সমস্ত ফাঁকা জায়গাজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতীর ফল গাছে পরিপূর্ণ, দেখতে অনেকটা যেন বাগানবাড়ির মত।এখানে শহীদুল সাহেব কুড়ি বছর আগে এসে গাছ-গাছালীর ভিতরে একটি টিন শেডের বাড়ি করে বাস করে আসছেন। সরকারি চাকুরীর গ্র্যাচুইটি ও সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে সম্প্রতি ফ্ল্যাট বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি দোতলায় দু'টি ইউনিটে থাকেন।


একটা ঔষধ কোম্পানীর এসএমপিও সাগর। সকাল সাতটা থেকে রাত্রী এগারটা পর্যন্ত ডিউটি।দুপুর দু'টোয় বাসায় গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেল চারটায় আবারও মেডিকেল মোড়ে আসে সাগর। সকালে না খেয়েই বাসা থেকে বের হতে হয়। ছেলে সিমুল সকালে ঘুম থেকে ওঠে আটটায়। দুপুর একটায় আবার ঘুম,ওঠে পাঁচটায়।রাত এগারটায় আবারও ঘুমিয়ে পড়ে। সে কারণে সাগরের সাথে দেখা ও কথা হয় না। সে দিন ডাঃ আনোয়ার হোসেন কে ভিজিট করার জন্য ল্যাবএইড হাসপাতালের চেম্বারে ঢোকে সাগর। রোগী দেখা শেষ করে সাগরকে ভিজিট দেন ডাঃ আনোয়ার।ডাঃ আনোয়ারকে খোশ মেজাজে থাকতে দেখে বেশ আলাপ জমে ওঠে দু'জনের মধ্যে।এক পর্যায়ে সাগরের সন্তান কত বড় জানতে চাইলে দু'হাত দু'দিকে প্রসারিত করে সাগর বলে, এই এত্ত বড় স্যার ! ডাঃ আনোয়ার বলেন, আমি উচ্চতা জানতে চাইছি,প্রস্থে দেখাচ্ছেন কেন?জবাবে সাগর জানায়,স্যার আমি তো প্রায় এক বছর যাবৎ ছেলেকে শুয়ে থাকতেই দেখি তো, তাই উচ্চতা ওভাবেই দেখালাম।এ নিয়ে দুঃখ থাকলেও খুব হাসাহাসি হয়েছিল সেদিন।


সকালে আরএমও সাহেব সকল এমপিওদের নিয়ে বৈশাখী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর সামনে দৈনন্দিন ব্রিফিং-এর মহড়া দেন। মহড়া শেষে আট/দশ জনের টিম বৈশাখী হোটেলেই প্রাতঃরাশ সেরে যাঁর যাঁর নির্দ্ধারিত ভিজিটিং পয়েন্টে গিয়ে অবস্থান নেন।সাগরের হিরো গ্লামার হোন্ডাটি মৌচাক কমপ্লেক্স এর সামনে পার্কিং করা। দিনাজপুর ফার্মেসীতে একটা বড় অর্ডার নিচ্ছিলেন সাগর। এক পর্যায়ে দেখতে পান, মৌচাক কমপ্লেক্সের সামনে রাখা তাঁর বাইকটি কে একজন লক খুলেছে এবং স্টার্ট দেয়ার চেস্টা করছে।

সাগর কাল বিলম্ব না করে এক লাফ দিয়ে রাস্তায় নেমে দৌড়াতে শুরু করে। পূর্ব দিক থেকে একটি দ্রুতগামী এ্যাম্বুলেন্স এসে সাগরকে সজোরে ধাক্কা দেয়।


ডান পায়ের উপর দিয়ে একটি চাকা চলে যাওয়ায় ফিমার ফ্রাক্সার হয়,এবং ডান হাতের কব্জি পর্যন্ত থেতলে যায় সাগরের ।রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তাঁর সহকর্মীগণ জানতে পারেন কি ঘটেছিল? কেনই বা সে ও ভাবে দৌড়াচ্ছিল? পরে গিয়ে অবশ্য তাঁর হোন্ডাটির কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। সাবিনাকে মোবাইলে জানানো হলে সিমুলকে নিয়ে ছুটে আসে হাসপাতালের এক্সটেনশন বিল্ডিংয়ের দোতলায়। ডাঃ এ বি এম রাশেদুল আমীরের তত্বাবধানে সাগরকে ভর্তি করা হয়। ডান হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে বাদ দিতে হয়। প্রায় এক মাস পর সাগর ফিরে আসে শালবন মিস্ত্রীপাড়ায় তাঁর ভাড়ার বাসায়। আরএমও পিযুষ কান্তি বড়ুয়ার বিশেষ সুপারিশে অফিসিয়াল চাকুরীর সুযোগ পায় সাবিনা। সে কারণে তাঁরা এখন স্বপরিবারে ঢাকায় থাকে।


★ আমি নার্সিং হোমের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারণেই সাগরের সাথে গভীর সখ্যতা হয়।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

আবু ঈসা মো. আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম

পীরগঞ্জ-রংপুর।

১৪/০৬/২০২২ খ্রিঃ।

No comments